আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তর্জন-গর্জন আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ- সব মিলিয়ে আটলান্টিকের দুই পাড়েই এখন টানটান উত্তেজনা। একদিকে ট্রাম্প উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের সামরিক জোট- ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটাতে বিশ্বনেতাদের জরুরি তলব করেছে ব্রিটেন। খবর বিবিসি।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ন্যাটো থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। শুধু বিবেচনা নয়, তার ভাষায় এটি এখন ‘বিবেচনার ঊর্ধ্বে’। ন্যাটোকে একটি ‘কাগজের বাঘ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও এই সত্যটি ভালো করেই জানেন।
সবচেয়ে বেশি ‘মশলাদার’ ছিল ব্রিটেনের নৌবাহিনী নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য। সরাসরি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তিনি বলেন, আপনাদের তো আদতে কোনো নৌ বাহিনীই নেই। আপনারা বড্ড সেকেলে হয়ে গেছেন, আর আপনাদের বিমানবাহী রণতরীগুলো তো চলেই না! মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের আবহে নেটোর কার্যকারিতা নিয়ে ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব পশ্চিমা মিত্রদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এদিকে, বিশ্বজুড়ে আকাশচুম্বী জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বর্তমানে কার্যত বন্ধ হয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’। এই সংকট নিরসনে এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার একটি আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবেন বলে ঘোষণা করেছেন স্টারমার।
স্টারমার আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্রিটেন কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে চায় না। তার মতে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর একমাত্র উপায় হলো কূটনৈতিক পথে উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ পুনরায় খুলে দেয়া। আমরা সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ খুঁজে দেখছি, বলেন স্টারমার।
ট্রাম্প যখন পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটো জোট ভেঙে দেয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে পুতিনকে পরোক্ষভাবে বাহবা দিচ্ছেন, তখন ব্রিটেন চেষ্টা করছে মিত্রদের নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বিপরীতে স্টারমারের ‘ডিপ্লোমেসি ফার্স্ট’ নীতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান থেকে পাততাড়ি গুটাচ্ছে আমেরিকা
ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও