চীনের নতুন মানচিত্রে ভারতীয় ভূখণ্ডকে চীনের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযোগে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মানচিত্রটিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ এবং বিতর্কিত আকসাই চিন মালভূমিকে চীনের এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সোমবার চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় মানচিত্রটি প্রকাশ করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছেন, ‘আমরা এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করছি কারণ এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।’
তিনি আরও বলেন, চীনের এই ধরনের পদক্ষেপ ‘সীমানা প্রশ্নের সমাধানকে জটিল করে তোলে’।
তবে এ ব্যাপারে বেইজিং এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও চীনের দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার টিভি চ্যানেল এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ‘চীন অতীতেও এমন মানচিত্র প্রকাশ করেছে যা অন্যান্য দেশের অন্তর্গত অঞ্চলকে চীনের বলে দাবি করেছে। এটি তাদের একটি পুরনো অভ্যাস।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে আলাপ করার কয়েকদিন পর ভারতের এই প্রতিবাদ এলো।
একজন ভারতীয় কর্মকর্তা পরে বলেছিলেন, দুই দেশ বিতর্কিত সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা জোরদার করতে’ সম্মত হয়েছে।
ভারত প্রায়ই তার ভূখণ্ডকে চীনের বলে দাবি করায় ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনার উত্স হল হিমালয় বরাবর একটি বিতর্কিত সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ডি ফ্যাক্টো সীমান্ত- যাকে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি বলা হয়। নদী, হ্রদ এবং তুষারপাতের উপস্থিতির কারণে লাইনটির অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।
উভয়পক্ষের সৈন্যরা প্রায়ই বিভিন্ন পয়েন্টে মুখোমুখি হয়। শেষবার গোট ডিসেম্বরে তাওয়াং শহরে সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল।
চীন বলেছে, তারা পুরো অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অঞ্চল বলে মনে করে। একে তারা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে অভিহিত করে, যে দাবি ভারত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এদিকে ভারত হিমালয়ের আকসাই চিন মালভূমির দাবি করে, যা চীন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
গত এপ্রিলে দিল্লি অরুণাচল প্রদেশের ১১টি স্থানের নাম পরিবর্তন করার জন্য চীনের প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিল, রাজ্যটি সর্বদা ‘ভারতের অখণ্ড এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ’ থাকবে।
২০২০ সালে ভারত ও চীনের সৈন্যরা লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় একটি মারাত্মক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। এটি ছিলো ১৯৭৫ সালের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘর্ষ।
ইসলামিক ব্যাংকিং চালু করছে রাশিয়া