থাইল্যান্ডের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে তার দুই বছরের মেয়ে ও দুই শিশু পুত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনেছে দেশটির পুলিশ। তাদের আরও সন্দেহ, সোনসাক সোনসায়েং নামের এই ব্যক্তিটি আগের বিয়ের আরও দুই শিশু পুত্রকেও হত্যা করেছে। গত সপ্তাহে ওই ব্যক্তির বাড়ির রান্নাঘরের মেঝেতে চাপা দিয়ে রাখা দুই বছর বয়সী একটি মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের পর এই অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর বিবিসির।
পুলিশ বলছে, সোনসাক দাবি করেছেন, তার মধ্যে একটি মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে । তিনি তার সন্তানদের হত্যা করেছিলেন, কারণ তিনি তাদের কান্নার শব্দ সহ্য করতে পারেননি।তাদের দুই বছরের মেয়ের মৃত্যুর জন্য তার স্ত্রীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর দুই ছেলের মৃত্যুর জন্য তার প্রাক্তন স্ত্রীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। সংসার চারবার বিয়ে করেছেন।
এই মাসের শুরুর দিকে ব্যাংককের ব্যাং খেন জেলায় এমন পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা সম্পর্কে প্রথমবার পুলিশকে জানানো হয়েছিলো। সোনসাকের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ১২ ও চার বছরে দুই মেয়েকে ওই ব্যক্তি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতো। বাবা-মা বাড়িতে থাকা অবস্থায় দুই মেয়েকে উদ্ধার করে পুলিশ।
১২ বছর বয়সী মেয়েটি পুলিশকে জানায় যে, তাদের বাবা-মা তার দুই বছরের বোনকে মারধর করেছিল, যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম থাইল্যান্ডে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের মেঝেতে সেই মেয়ের মরদেগ পুঁতে রাখা হয়। সেখানে মৃতদেহটি শনাক্ত করতে পুলিশকে সহায়তা করেছিলো সে।
থাই পুলিশ সোংসাকের বিরুদ্ধে তার তৃতীয় স্ত্রীর সাথে থাকা আরও দুই পুত্রকে হত্যা করার জন্য অভিযুক্ত করেছে। দশ বছর আগে উদ্ধার করা শিশু দুটোর মরদেহ থেকে ডিএনএ পরীক্ষা পর সোংসাকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনে পুলিশ। শিগগিরই তা বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে।
সোংসাকের তৃতীয় স্ত্রী জানান, তার স্বামী তাদের চার শিশু পুত্রকে হত্যা করেছেন। স্ত্রী পুলিশকে নিয়ে দুই পুত্রকে কবর দেয়ার স্থানটি শনাক্ত করেছেন। পুলিশ ধারণা করছে অন্য দুজনকে হয়তো এমন একটি এলাকার নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে, যেখানে এখন একটি পেট্রোল স্টেশন রয়েছে।
