পৃথিবীজোড়া বিখ্যাত ভারতীয় খাবারের পদ বাটার চিকেন ও ডাল মাখনি নিয়ে আইনি লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে।
ভারতের আইন বিষয়ক সংবাদ পরিবেশন ল ট্রেন্ড জানিয়েছে, নয়াদিল্লির দরিয়াগঞ্জ রেস্তোরাঁর ট্রেডমার্ক বাতিলের জন্য একটি পিটিশন দাখিল করেছে বিখ্যাত রেস্তোরাঁ চেইন মতি মহল।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দুই রেস্তোরাঁ খাবার দুটির আবিষ্কারের কৃতিত্ব নিয়ে লড়াইটা হয়েছে এ বছরের শুরুতে। এই খাবারের স্রষ্টা কে? মূলত ঝামেলা বেঁধেছিলো সেই প্রশ্নে। যা গড়িয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট পর্যন্ত।
আদালতের দ্বারে গিয়ে মোতি মহল রেস্তোরাঁ বলেছে, দরিয়াগঞ্জ রেস্তরাঁর তাদের আবিষ্কার নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিলো গত ২৯ মে। কিন্তু শুনানির দুদিন আগে দরিয়াগঞ্জ রেস্তোরাঁর ট্রেডমার্ক বাতিলের পিটিশন করে বসেছে মতি মহল।
আগামী জুলাই মাসে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি আনিশ দয়ালের একক বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে।
মোতি মহলের দাবি এই রেসিপি আবিষ্কারের কৃতিত্ব তাদের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত কুন্দললাল গুজরাল। মোতি মহল বলছে, গত শতকের তিনের দশকে বর্তমান পাকিস্তানের পেশাওয়ারে প্রথম রেস্তোরাঁ খোলার সময় কুন্দললাল গুজরালই এই খাবার আবিষ্কার করেন। দেশভাগের পর রেস্তোরাঁটি দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।
মোতি মহলের দাবি দরিয়াগঞ্জ নিজেদের এই খাবার আবিষ্কারের মিথ্যা দাবি করছে। গুজরাল পরিবার দুই কোটি রুপি ক্ষতিপূরণও দাবি করছে।
এদিকে মোতি মহল আদালতে মামলা করে সঙ্গে দুই হাজার ৭৫২ পাতার নথি জুড়ে দিয়েছিলো। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব নারুলার বেঞ্চে মামলাটি ওঠে।
এক মাসের মধ্যে দরিয়াগঞ্জ রেস্তোরাঁকে লিখিতভাবে তাদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেন আদালত। মোতি মহলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মণীশ গুজরাল বলেন, কেউ কারো উত্তরাধিকার কেড়ে নিতে পারে না। আমাদের পিতামহ যখন পাকিস্তানে ছিলেন, তখন তিনি এই রান্না আবিষ্কার করেন।

তবে মোতি মহলের অভিযোগ মানতে নারাজ দরিয়াগঞ্জ। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই রেস্তোঁটির দাবি, তাদের পারিবারিক সদস্য প্রয়াত কুন্দন লাল জগ্গির সঙ্গে কুন্দনলাল গুজরালের যৌথ অংশীদারত্ব ছিলো।
১৯৪৭ সালে দিল্লিতে গুজরালের সঙ্গে মিলেই রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন জগ্গি। দুজনই ছিলেন পেশাওয়ারের মানুষ। রেস্তোরাঁ দুজন মিলেই চালাতেন। খাবারটি সেখানেই আবিষ্কার হয়েছিলো। সে কারণে খাবারটির আবিষ্কর্তা হিসাবে নিজেদের দাবি করার অধিকার তাদেরও আছে।
দরিয়াগঞ্জ তাদের এই দাবির সপক্ষে প্রমাণ হিসাবে বহু পুরোনো হাতে লেখা একটি অংশীদারিত্বের নথি দেখিয়েছে। যা ১৯৪৯ সালে নিবন্ধিত।
তবে মোতি মহল বলছে, দরিয়াগঞ্জ দেখাতে চাইছে মোতি মহলের সঙ্গে তাদের কোনো সংযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। মোতি মহলের সঙ্গে নিজেদের নাম জড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে দরিয়াগঞ্জ।
প্রথম যখন এই মামলার খবর সামনে আসে তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তা ভাইরাল হয়।
ভারতের সাইকৃষ্ণা অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের আইনজীবী (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি সংক্রান্ত) অমিত দত্ত ওই সময় এনডিটিভিকে বলেছিলেন, এটা অভিনব মামলা। সত্যিই জানি না, কে বাটার চিকেন প্রথম তৈরি করেন। আদালতের ওপর প্রচুর চাপ পড়বে।
অনেক খাদ্যবিশারদদের মতে, মূলত বেচে যাওয়া তন্দুরি মুরগীকে নানা মশলায় মাখন আর ক্রিম দিয়ে রান্না থেকেই শুরু বাটার চিকেনের।
শুরু যেভাবেই হোক, সেটি কে করেছিলেন তার জবাবের জন্য আপাতত আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আপাতত আর কোনো উপায় নেই। মতি মহলের নতুন পিটিশনের শুনানির ওপরও নির্ভর করছে এখন অনেক কিছু।
