উত্তর কোরিয়া থেকে পাওয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এমনকি ইরানের কাছ থেকে রাশিয়া স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনা করছে বলেও দাবি করেন তারা।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার এবং বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।
রুশ বাহিনী ৩০ ডিসেম্বর ইউক্রেনে অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল যেটি জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলের একটি খোলা মাঠে এসে পড়েছিল।
তিনি বলেন, রাতারাতি হামলার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র এর প্রভাব মূল্যায়ন করছে। ওইসব ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৫৫০ মাইল (৮৮৫ কিলোমিটার) পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
কিরবি বলেন, বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ত্র হস্তান্তরে যারা কাজ করছে তাদের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
তবে বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, অস্ত্র সহযোগিতার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার থেকে বিমান, ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সরঞ্জাম এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি পেতে চায়।
কিরবি বলেছেন, রাশিয়া-ইরান চুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার আলোচনা সক্রিয়ভাবে অগ্রসর হচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
এর আগে, অক্টোবরে হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল,উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে এক হাজারেরও বেশি কন্টেইনার সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ দিয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের জন্য রাশিয়া সফর করেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
ইউক্রেনে যেতে ব্রিটিশ মাইনবিধ্বংসী জাহাজকে পথ দিচ্ছে না তুরস্ক