রমজান মাসে রোজার সময় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত সময়ের উপর নির্ভর করে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে সেহরি ও ইফতারের সময়ে পার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হলেও পৃথিবীতে এমন দেশ আছে, যেখানে সবসময় সূর্য দেখা যায়।
নরওয়ে নামের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটিতে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সূর্য দেখা যায়। তাহলে কিভাবে হয় এ দেশটিতে রোজা পালন?
বিষুবরেখা থেকে দূরে অবস্থিত দেশগুলিতে রোজার সময়কাল দীর্ঘতর হয়ে থাকে। দিনের আলোর সময়কাল এখানে ঋতুর উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। এসব দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে অন্যতম। নরওয়ে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত থাকার কারণে গ্রীষ্মের মাসগুলিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টায় সূর্য দেখা যায়। এর ফলে ২০১৬ সাল থেকে এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির রোজার সময়কাল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।
এই সুবিধা শুধু নরওয়ে না বিশ্বের উত্তরাঞ্চলীয় কয়েকটি দেশ ও শহর পাবে যেখানে সূর্য ২৪ ঘণ্টা দৃশ্যমান থাকে। সেখানে ২০১৬ সালে ফতোয়া কার্যকর করা হয়েছে। এই অঞ্চলের মুসল্লিরা তাদের রোজার সময় নির্ধারণের জন্য মক্কা বা নিকটতম মুসলিম দেশের রোজা পালন করার সময়সূচি অনুসরণ করবে। এজন্য নরওয়ের মুসল্লিরাও সৌদি আরবের রোজার সময়কাল অনুসরণ করে এ বছর গড়ে ১৫ ঘণ্টা করে রোজা করবে।
প্রতি বছর রমজান শুরুর সময় ১০-১২ দিন এগিয়ে আসে। এর কারণ হলো রমজান শুরুর সময় হিজরি ক্যালেন্ডারের (চন্দ্র) উপর ভিত্তি করে করা। আর হিজরি ক্যালেন্ডারে মাসগুলিতে ২৯ বা ৩০ দিন থাকে।
যেহেতু চন্দ্রবর্ষ সৌরবর্ষের চেয়ে ১১ দিন ছোট হয় তাই প্রতিবছর রমজানের সময় এগিয়ে আসে। এজন্য ২০৩০ সালে রমজান দুবার পালন করা হবে, প্রথমে ৫ জানুয়ারি এবং তারপর ২৬ ডিসেম্বর থেকে আবার রমজানের মাস শুরু হবে। ৩৩ বছর পর ২০৫৭ সালে আবারও ১২ মার্চে রমজান শুরু হবে।
তবে, বিশ্বজুড়ে সেহরি ও ইফতারের সময়ে এ পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রমজান পালন বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ অভিজ্ঞতা।
রমজানে জেরুসালেমে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা