মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পরিস্থিতির কারণে প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর। প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র সাবরিনা সিং মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ওয়েবসাইটে এ খবর জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইসরাইল সফরের আগেরদিনই এ খবর দেওয়া হলো।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে সংঘাতের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পাশে রয়েছে। ইসরাইল ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন রণতরী, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান। এ তৎপরতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবার সেনাসদস্য প্রস্তুত করেছে
সাবরিনা সিং বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে তাদেরকে ইসরাইলে মোতায়েনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রস্তুত রাখা সেনাদল যুদ্ধ করবে না। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে তাদের পদাতিক বাহিনী হিসেবে মোতায়েনেরও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন প্রায় দুই হাজার সেনাকে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন। তাদেরকে ইসরাইলে চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, ‘ইসরাইলের যুদ্ধে কোনো মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য আমাদের নেই।’
হোয়াইট হাউজ বলেছে, শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য এই সেনাদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন বলেছে, প্রস্তুত রাখা সেনাদের ইসরাইলের দক্ষিণ উপকূলে পাঠানো হবে। তারা অবশ্য হামাসের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না।
কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে বার্তা পাঠাতে চাইছে। ওয়াশিংটন চায় না, ইসরাইল-হামাস সংঘাত বাইরে ছড়িয়ে পড়ুক। তবে এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন ওই কর্মকর্তারা।
এর আগে সংঘাত শুরুর পরপরই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডসহ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে আরও একটি রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গোলাবারুদসহ নানা মার্কিন অস্ত্র।
গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার জবাবে গাজা উপত্যকায় নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। পাল্টাপাল্টি হামলার শুরু থেকেই হামাসকে সমর্থন দিচ্ছে ইরান। এদিকে লেবানন থেকে ইসরাইলে হামলা চালাচ্ছে শিয়াপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। পাল্টা হামলা চালিয়ে এর জবাব দিচ্ছে ইসরাইল। লেবানন সীমান্তে ট্যাংক ও সেনা মোতায়েন করেছে ইসরাইল।
রাস্তায় আটকে থাকা-বৈঠকের জন্য অপেক্ষা, সবই হলো ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে
গাজায় ১৩০০’র বেশি ভবন ধ্বংস: জাতিসংঘ