মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরানের খার্গ দ্বীপে আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটি স্পষ্ট জানিয়েছে, আমিরাতের মাটিতে থাকা লুকিয়ে রাখা মার্কিন ‘আস্তানা’ এখন থেকে তাদের কাছে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম' নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় মার্কিন শত্রু দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎসস্থলে আঘাত হানার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। এর মধ্যে আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের বন্দর, ডক এবং গোপন আস্তানাগুলো অন্তর্ভুক্ত।

ইরান শুধু হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা আরব আমিরাতের সাধারণ বাসিন্দাদের মার্কিন সামরিক এলাকা, বন্দর এবং ডকগুলো থেকে দূরে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশটির জনবহুল কেন্দ্রগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি দাবি করেছেন, ইরানি নৌবাহিনী এরই মধ্যে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর পর্যায়ক্রমিক কয়েক দফায় হামলা চালিয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল, আবুধাবির আল-ধাফরা ঘাঁটি, কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা ঘাঁটি। আইআরজিসি মনে করে, বাহরাইনের মাটি ব্যবহার করছে মার্কিন সেনারা।
তাংসিরি আরও দাবি করেন, এই হামলাগুলোতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি সংরক্ষণাগার সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের খার্গ দ্বীপে শুক্রবার রাতের হামলাকে একটি বৃহৎ পরিসরের নিখুঁত হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, এই হামলায় ইরানের নৌ-মাইন মজুত কেন্দ্র, মিসাইল বাঙ্কার এবং একাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকম আরও দাবি করেছে, তারা ইরানের ৯৫টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও দেশটির ‘তেল অবকাঠামো’ বা অয়েল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কোনো ক্ষতি করেনি।

মার্কিন হামলার পর খার্গ দ্বীপের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও একজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বীপটি থেকে তেল রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। তেল কোম্পানিগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এখন প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করছে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা, পরের টার্গেট তেল স্থাপনা: ট্রাম্প
ইরানের মাস্টারস্ট্রোক: জ্বালানি করিডোর বন্ধ করে মার্কিন শক্তিকে চ্যালেঞ্জ!