ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে, সৌদি আরবে অবস্থিত আমেরিকার প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'ই-থ্রি সেন্ট্রি' বা 'অ্যাওয়াকস' কমান্ড ও কন্ট্রোল বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি'র প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, শক্তিশালী এই বিমানের মূল অংশটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলেও কেবল মাথা ও লেজের অংশটি অবশিষ্ট রয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, শুক্রবারের এই অভিযানে কমপক্ষে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৯টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এই হামলায় শুধু একটি নজরদারি বিমানই নয়, বরং সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, মার্কিন ও ইসরাইলি জোট ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
পাল্টাপাল্টি এই হামলায় বেসামরিক প্রাণহানিও ঘটছে আশঙ্কাজনক হারে। ইরানের মিনাব এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ১৮০ জন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বুশেহর প্রদেশে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত এবং খুজেস্তান প্রদেশের একটি পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংঘাত এখন শুধু সৌদি আরব বা ইরানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা শনিবার ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, তেহরান সময় রবিবার সকালে তেহরানের আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণে দুইজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। ইরানও বসে নেই; তারা হাইফার সামরিক কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি 'এলটা'র একটি রাডার কেন্দ্র এবং বেন গুরিওন বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এখন পর্যন্ত তাদের বিমান ধ্বংসের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনা নিহতের খবর স্বীকার করেছে পেন্টাগন।
মার্কিন স্থল অভিযানের লক্ষ্য হরমুজে অভিযান ও খার্গ দ্বীপ দখল