ইরানের শিক্ষা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরাইলি জোটের ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে এবার আক্রান্ত হয়েছে তেহরানের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’। সোমবার ভোরে পরিচালিত এই বিমান হামলায় বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি বিষয়ক এই বিশ্ববিদ্যালয়টির মসজিদ এবং গ্যাস পোস্টসহ বেশ কিছু স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রথম প্রহরে চালানো এ হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তেহরানের ডিস্ট্রিক্ট নাইনের মেয়র মহসেন দোদাঙ্গে জানান, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্যাস পোস্ট সরাসরি আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে নিকটস্থ বেশ কিছু বাড়িঘর খালি করা হয়েছে।

শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রধান মাসুদ তাজরিশি বার্তা সংস্থা ইরনাকে জানান, এই বর্বরোচিত হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার ফলে আশেপাশের ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, শরীফ ইউনিভার্সিটি একটি বিশুদ্ধ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এদেশের শত্রুরা তাদের নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করতে গিয়ে এই পবিত্র বিদ্যাপীঠকে আঘাত করেছে।
তাজরিশি আরও জানান, হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। শত্রুর এই কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘কাপুরুষোচিত’ এবং তাদের ‘হতাশার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরানকে বিশ্বের একটি বড় বৈজ্ঞানিক শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর পুনর্গঠন কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের এই আগ্রাসন শুরু করে। গত এক মাস ধরে তারা পরিকল্পিতভাবে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো এবং জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যার ফলে ইতোমধ্যে শত শত সাধারণ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

শরীফ ইউনিভার্সিটিই প্রথম নয়; এর আগে গত এক মাসে তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, শিরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ, ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং উর্মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে এই আক্রমণকারী জোট।
এই ধারাবাহিক হামলাগুলো ইরানের শিক্ষা ও প্রগতির পথকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে তেহরান। ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
