মার্কিন-ইসরাইলি জোটের পরিকাঠামো ধ্বংসের হুমকির মুখে ইরান এখন আর শুধু রক্ষণে সীমাবদ্ধ নেই। মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন ও ভয়ংকর পাল্টা আক্রমণে তেহরান সরাসরি ইসরায়েইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মালিকানাধীন জ্বালানি ও সামরিক কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই ‘পাথুরে জবাব’ পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
ইরানি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতভর চালানো ড্রোন হামলায় ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা সংলগ্ন বিশাল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলি অর্থনীতির হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত এই রাসায়নিক কেন্দ্রের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রটি ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন রাসায়নিক ও প্রযুক্তিগত রসদ সরবরাহের মূল উৎস।

পাল্টা হামলার আগুনের লেলিহান শিখা পৌঁছে গেছে জেবেল আলী বন্দর এবং কুয়েতের বিমান ঘাঁটিতেও। দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্রটি ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এটি এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবহরের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট হাব।
পাশাপাশি, কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর আবাসন এবং রাডার সিস্টেমগুলো ড্রোন হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বলে ইরান দাবি করেছে। সেখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৩২তম এক্সপেডিশনারি স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবার সৌদি আরবের মাটিতে অবস্থিত মার্কিন মালিকানাধীন জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতেও সরাসরি আঘাত হেনেছে। আল জুবাইল শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত এ অঞ্চলের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, যাতে মার্কিন জায়ান্ট এক্সন মবিল, সা দারা এবং ডার্ক কেমিক্যালের মালিকানা রয়েছে, সেটি ইরানি মিসাইলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আল জুয়াইমাহ এলাকায় মার্কিন কোম্পানি শেভরন ফিলিপসের কেন্দ্রেও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তেহরান।

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দেশের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প এবং জাতীয় পরিকাঠামোতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদেই এই ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতদিন যারা ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছিল, এখন তাদের নিজেদেরই সবচেয়ে মূল্যবান অর্থনৈতিক ও সামরিক স্থাপনাগুলো আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলছে। ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই ইরানের এই আগ্রাসী আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে এক নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেল। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির পর কী পদক্ষেপ নেয়।
তথ্যসূত্র: ফারস নিউজ ও প্রেস টিভি
