যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এরিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। গত রোববার ইসলামাবাদে দু’দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলের ওপর এই কঠোর অবরোধ ঘোষণা করেন। তবে, অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় জাহাজ চলাচলের চিত্রে খুব বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কমপক্ষে আটটি জাহাজ সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজ ইরানের সাথে সম্পর্কিত থাকলেও তারা অন্য গন্তব্যের দিকে যাওয়ায় অবরোধের মুখে পড়েনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই সফলভাবে মার্কিন অবরোধ ভেঙে এগোতে পারেনি। বরং ছয়টি জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হবার আগে এ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই সংখ্যা এখন সামান্যতম অংশে নেমে এসেছে। এই অবরোধ বিশেষ করে তেল কোম্পানি এবং বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বর্তমানে জাহাজগুলোর জন্য যুদ্ধের ঝুঁকিজনিত বীমা খরচ সপ্তাহে কয়েক লক্ষ ডলারে পৌঁছেছে।
অবরোধের মধ্যেও যে কয়েকটি জাহাজ সফলভাবে পার হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ‘রিচ স্টারি’ অন্যতম। চীনা মালিকানাধীন এই ট্যাঙ্কারটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মিথানল নিয়ে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে উপসাগর থেকে বের হতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এই জাহাজটি আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল, তবুও চীনা ক্রু নিয়ে এটি সফলভাবে অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, পানামার পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ নামের অপর একটি ট্যাঙ্কার আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি হরমুজ প্রণালীর ভেতরে না ঢুকে ওমান উপসাগরে অবস্থান নিয়ে এই অবরোধ কার্যকর করছে। এখানে মূলত জাহাজগুলোকে আক্রমণ না করে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি একটি বিরতিহীন বা পর্যায়ক্রমিক অবরোধ হতে পারে। তবে, মানবিক সহায়তাসম্পন্ন জাহাজগুলোকে এই অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছে। তারা সতর্ক করেছে, এ ধরনের অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে। জাহাজ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, অদূর ভবিষ্যতে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার বিষয়টি আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ভারতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯
দুই ইরানি ট্যাঙ্কার আটকে দেয়ার দাবি আমেরিকার