পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে টানা তৃতীয় দিনের মতো হরমুজ প্রণালী কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে। পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের গতিপ্রকৃতি নিয়ে দুই দেশের চরম মতভেদের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং সাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাত্র তিনটি জাহাজ এই উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে দুটি ছিল তেলের ট্যাঙ্কার, যেগুলোতে কোনো জ্বালানি ছিল না। সোমবার ভোরে জ্বালানি ভর্তি মাত্র একটি ট্যাঙ্কার এই প্রণালী দিয়ে উপসাগর ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছে।
'নোভা ক্রেস্ট' নামক এই জাহাজটি তুর্কি একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত এবং এটি চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরাকি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এর আগে রুশ তেল পরিবহনের দায়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ 'উইন্ডওয়ার্ড' জানিয়েছে, গত শনিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যখন হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করে, তখন অন্তত ১৩টি জাহাজ তাদের পথ পরিবর্তন করে ফিরে যায়।
শনিবার একটি কন্টেইনার জাহাজে গোলাবর্ষণ করা হয় এবং আরও দুটি জাহাজ তাদের ওপর গুলি চালানোর খবর জানায়। এর ফলে রোববার সারাদিন এই প্রণালী দিয়ে কোনো তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সব জাহাজ তাদের অবস্থান জনসমক্ষে প্রকাশ করে না।
শিপিং বিষয়ক পরামর্শদাতা সংস্থা 'অ্যাম্ব্রে' সোমবার জানিয়েছে, "রেডিওর (ভিএইচএফ) মাধ্যমে কোনো হুমকি পাওয়ার সাথে সাথেই জাহাজগুলোকে তাদের পূর্বপরিকল্পিত যাত্রা বাতিল করে যাত্রা শুরুর স্থানে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছে, আইআরজিসি নৌবাহিনী তাদের পথ না বাড়াতে এবং যাত্রা বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন-রয়টার্স
