২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান আমেরিকা ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি!

সম্ভাব্য ভেন্যু জেনেভা

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসান এবং বিশ্ব অর্থনীতি সচল করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব রাজনীতি। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আর চুক্তি সই হতে পারে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। দুই দেশের এই যুদ্ধ থামানোর পেছনে নেপথ্যের নায়ক ও প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সব চুক্তির দেশ হিসাবে পরিচিত সুইজারল্যান্ডের জেনেভা ভেন্যু হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার প্রস্তাব দিয়েছে।


ডিজিটাল স্বাক্ষর ও দুই ধাপের শান্তি প্রক্রিয়া:
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এতে ‘ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর’ বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সই করবেন। এরপর আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে কারিগরি ও কৌশলগত পর্যায়ের দীর্ঘ আলোচনা। এই শান্তি আলোচনা সফল করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা এবং আমেরিকা ও ইরানের আন্তরিকতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাব্য চুক্তির পুরো কাঠামো ও ব্লুপ্রিন্ট বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। আরাগচি জানান, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এই প্রাথমিক চুক্তি সই হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের সমস্ত আর্থিক সম্পদ একযোগে মুক্তি দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ, যা প্রায় ৬০ দিন স্থায়ী হবে এবং এই সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য উভয় পক্ষ টেবিলে বসবে।


ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার:
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং সামগ্রিক পারমাণবিক ইস্যুটিকে কৌশলেই প্রথম ধাপ থেকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার জন্য তোলা রাখা হয়েছে। আমেরিকা চেয়েছিল ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিক, কিন্তু ইরান তাদের অবস্থানে অনড়। আরাগচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না, বরং তা ইরানের ভেতরেই তরল করা হবে এবং এটাই একমাত্র উপায়। দ্বিতীয় ধাপের ৬০ দিনের আলোচনায় আমেরিকার আরোপিত সব অবৈধ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চিরতরে প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকবে। যদি ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব না হয়, তবে পুরো পরিস্থিতি আবার আগের যুদ্ধকালীন অবস্থায় ফিরে যাবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

রণাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে হুঙ্কার ছেড়ে আরাগচি বলেন, আমেরিকা-ইসরাইলের অত্যাধুনিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও এই অন্যায় যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের কূটনীতি মূলত রণাঙ্গনের এই বিজয়কে চুক্তির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে মাত্র। এই চুক্তির প্রথম শর্তই হচ্ছে ইরানের ওপর আমেরিকার দেওয়া অবৈধ নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা। এছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটি বিশাল অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্যাকেজ এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিতে বিপুল আন্তর্জাতিক তহবিলের জোগান আসবে। ইতিহাসের এই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাপ্তরিকভাবে ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানাতে বাধ্য হচ্ছে।


হরমুজ প্রণালী ও লেবানন নিয়ে নতুন সমীকরণ:
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং কোনো পক্ষই আর শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না। ওমানের সাথে যৌথভাবে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনার জন্য আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি নতুন আইনি ও পরিচালন কাঠামো ঘোষণা করবে ইরান। তবে মার্কিন ব্লক বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে।

ইসরাইলি শিবিরে চরম উদ্বেগ ও নেতানিয়াহুর ক্ষোভ: আমেরিকা ও ইরানের এই আসন্ন শান্তি চুক্তিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেল আবিব কোনোভাবেই এই যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জনগণের সামনে যে রণকৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা ছিল ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলা।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বর্তমান ব্যবস্থার সাথেই চুক্তি করে ফেলায় ইসরাইলি প্রশাসন ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে, কারণ লেবানন সীমান্ত সুরক্ষিত না হলে উত্তর ইসরায়েলের বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ নাগরিক ঘরে ফিরতে পারবে না, যা আগামী ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয় নিশ্চিত করতে পারে। তাই চুক্তি সইয়ের আগের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে যতটা সম্ভব সুবিধা আদায়ের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরাইল।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-রয়টার্স

এআরএস
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়ে এক চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে ইরান তাদের বোমা...
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার সম্ভাব্য ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ সই হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের কূটনীতিতে শুরু হয়ে গেছে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর...
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির সমঝোতার খসড়া ও সামগ্রিক বিষয়বস্তু নিয়ে যখনই আমরা নিশ্চিত হবো যে, এটি ইরানি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে, তখনই আমরা তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করবো বলে জানিয়েছেন ইরানের...
অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের বারুদে ভেজা আকাশে কিছুটা শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ আর অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ধস ঠেকাতে ইরানের ওপর নতুন করে পরিকল্পিত বিমান হামলা বাতিলের ঘোষণা...
দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা ফুরোচ্ছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হতে আবারও পা রাখছে নিউ জার্সির ঐতিহাসিক মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। শেষবার এই...
চোটের কারণে রোববার ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামা হচ্ছে না তাঁর। কিন্তু মাঠের বাইরে থাকলেও, হেক্সা মিশনের ঠিক আগমুহূর্তে পুরো ব্রাজিল দলের কেন্দ্রবিন্দুতে সেই একজনই-...
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে রোববার ভোরে শুরু হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা।  তবে মাঠের আসল কিক-অফের আগেই ট্রাম্পের দেশ আমেরিকার বুকে সাম্বা ঝড় তুলে দিয়েছেন সেলেসাও...
দীর্ঘ ২৪ বছর পর অবশেষে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরছে ইউরেশিয়ান জায়ান্ট তুরস্ক। সবশেষ ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা। সেই সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর