নেপালের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড আস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর দেশটিতে গঠিত হতে যাওয়া নতুন জোট সরকারের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ইউনিফাইড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (ইউএমএল) নেতা কে পি শর্মা ওলি।
কে পি শর্মা ওলি শনিবার তার জোটের অংশীদার নেপালি কংগ্রেসের (এনসি) সাথে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। এ আলোচনায় নতুন জোট সরকারের মন্ত্রীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার নতুন জোট সরকারের মন্ত্রীসভার শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷
রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পাউডেল রোববার বিকেলের মধ্যে এনসি-ইউএমএল জোটের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৭২ বছর বয়সী ওলিকে নিয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে সোমবার একটি ছোট মন্ত্রিসভা ঘোষণা করা হতে পারে বলে এনসি এবং ইউএমএলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলি জানিয়েছে।
শুক্রবার রাতে ওলি নেপালি কংগ্রেস (এনসি) সভাপতি শের বাহাদুর দেউবার সমর্থনে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৬-২ এর অধীনে সরকার গঠনের জন্য দাবি উত্থাপন করেন এবং তার দাবির সমর্থনে ১৬৫ জন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ (এইচওআর) সদস্যের স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন যাদের মধ্যে তার দলের ৭৭ জন এবং নেপালি কংগ্রেসের ৮৮ জন। ।
রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পাউডেল শুক্রবার রাজনৈতিক দলগুলিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়ে নতুন সরকার গঠনের দাবি করার আহ্বান জানান।
এরপর আলোচনায় বসে এনসি ও ইউএমএল। আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুসারে, নেপালের মোট ২১ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এনসি নয়টি মন্ত্রণালয় এবং ইউএমএল আটটি এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ পাবে বলে ওলির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।
হোম, ফরেন, ফাইন্যান্স এবং এনার্জির মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এনসি ও ইউএমএল ভাগাভাগি করবে। এনসি সম্ভবত হোমের পোর্টফোলিও পাবে এবং ইউএমএল ফাইন্যান্স পাবে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
এর আগের মেয়াদে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সরকার গঠন করেছিলেন পুষ্প কমল দহল। তখন তৃতীয়বারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এরপর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তাকে তিনবার জোট বদলাতে হয়। আর পাঁচবার পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হয়। তবে শেষমেশ গতকাল পঞ্চমবারের অনাস্থা ভোটে হেরে যান।
২০০৮ সালে নেপালে ২৩৯ বছরের পুরনো রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। এরপর থেকে গণতান্ত্রিক নেপালে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা।
কে পি শর্মা ওলি নতুন সরকার গঠন করলে সেটা হবে ২০০৮ সালের পর দেশটিতে ১৪তম গণতান্ত্রিক সরকার। নেপালের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সবসময় বড় দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনের কড়া নজরদারিতে থাকে।
হিমালয়ঘেঁষা নেপালে এই দুই দেশেরই বড় বিনিয়োগ রয়েছে। দিল্লি ও বেইজিং নেপাল ও নেপালের রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে চায়।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহলের সরকারের ওপর থেকে গত সপ্তাহে সমর্থন তুলে নেয় অন্যতম বৃহত্তম জোটসঙ্গী ইউএমএল। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন কে পি শর্মা ওলি।
এরপর পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে ৬৯ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহলের সামনে দুইটি বিকল্প খোলা ছিল। হয় তাকে সরকার প্রধানের পদ ছাড়তে হবে, নতুবা পার্লামেন্টে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। পুষ্প কমল দ্বিতীয় বিকল্প বেছে নিয়ে ব্যর্থ হন।
কে পি শর্মা ওলি এর আগে দুইবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গত জুনের শেষের দিকে তিনি মধ্যপন্থী দল নেপালি কংগ্রেসের (এনসি) সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। এর ফলে পার্লামেন্টে এই জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ সুগম হয়। তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, কে পি শর্মা ওলি নতুন সরকার গড়বেন।
কেনিয়ায় সব মন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট