ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা নজিরবিহীন রাজপথ ঘেরাও কর্মসূচিকে ঘিরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এখন পুরোপুরি এক অবরুদ্ধ দুর্গে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন এবং প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে পুরো শহর সীলগালা করে দেয়া হয়েছে।

দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশ কর্মকর্তারা সাড়িবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন, মাথার উপর ড্রোন উড়ছে এবং জায়গায় জায়গায় ভারী লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সেখানে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া কিছু সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছে সেখানে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করা শুরু হয়। এর মধ্যেই অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে দিল্লিতে উড়োজাহাজ অবতরণের পর বিমানে পুলিশ উঠতেই সংগঠনটির প্রধান প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর সহযোগীরা 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' ও 'বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক' স্লোগান দিতে থাকেন, যা পরবর্তীতে নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিমানে প্রবেশের পরপরই তাকে ও তার সঙ্গীদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

এর আগে নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেছিলেন, আন্দোলনের স্বার্থে জেলে যেতেও তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। দিল্লিজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দিপকে, ছাত্রনেতা নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মানিক সরকার ও পিনারাই বিজয়ন রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দিপকে লিখেছেন, আমাদের বিক্ষোভ শুরুর আগেই মোদি পরাজয় মেনে নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় এবং দিল্লি অচল করে দেওয়ার পদক্ষেপ শক্তির লক্ষণ নয়; বরং এমন নেতার লক্ষণ, যিনি নিজের জনগণকেই ভয় পান।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ভারপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতা ও সংগঠক হিসেবে এই প্ল্যাটফরমের অন্যতম জ্যেষ্ঠ সংগঠক অজিঙ্কা শিন্ডের নাম ঘোষণা করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ১০ অক্টোবর নয়াদিল্লি আসার আগেই এক ভিডিওবার্তায় এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

যন্তর মন্তরে কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পুলিশের বিশেষ নারী দল ‘পিঙ্ক ফোর্স’ মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি বিক্ষোভে নারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণের খবর সামনে আসায় এ বিশেষ দল মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে দিল্লিতে অন্তত ১০০০ জনকে আটক করা হয়। শনিবার সকালে আরও প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

পরিস্থিতি নজরদারিতে দিল্লির বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় তিনশ’র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভিডিওর পাশাপাশি সেগুলোতে অডিও রেকর্ড করার সক্ষমতাও রয়েছে। এছাড়া, সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে লাউড–স্পিকারে লোকজনকে বিক্ষোভে যোগ না দিতে বলা হচ্ছে। না হলে গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

পুলিশ দিল্লিজুড়ে লজ ও হোটেলে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিক্ষোভে যোগ দিতে এসেছেন, এমন কাউকে কক্ষ ভাড়া না দিতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এয়ারবিএনবি ও বিভিন্ন বাড়ির মালিকদেরও একই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যন্তর মন্তরের আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট সেবার পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে কমপক্ষে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। বাতিল করা হয়েছে দিল্লিগামী ২৫০টি ট্রেন।
