মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে, দেশের ওপর আর যেনো কোন কালো থাবা না পড়ে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে গোটা বিশ্বে চলমান সংকট সম্পর্কে সতর্ক থাকতেও বলেছেন সরকার প্রধান।
বুধবার সকালে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ‘বীর নিবাস’র চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গেলো ১৪ বছরের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। আমরা এরইমধ্যে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছি। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করেছি। উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মর্যাদা পেয়েছি। ৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বো।
তিনি বলেন, একটা সময় ছিল, যখন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেওয়া কঠিন ছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে ফেলার চেষ্টা চলেছে। আমরা এসে তাদের মর্যাদা দিয়েছি। আমরা চাই, যারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধ করেছেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, মর্যাদা পাক।
তিনি আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা মানবেতর জীবনযাপন করবে, রিকশা চালাবে, আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা ক্ষমতায় থাকতে সেটা হবে না। আমরা অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঘর করে দিচ্ছি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের কাছে ভাতা পৌঁছে দিচ্ছি।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যে যে দলই করুক, আর যে মতেরই থাকুক ১৯৭১ সালে যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে জাতির পিতার ডাকে সারা দিয়ে যুদ্ধ করেছে, আমাদের বিজয় এনে দিয়েছে। তাদেরকে সম্মান দেখানো এটা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করি।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় আবারও পুকুর থেকে দুটি প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার
তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার ব্যবস্থা করেছি, তাদের নূন্যতম ভাতা এখন ২০ হাজার টাকা। তাছাড়া যাদের ঘর নাই, বাড়ি নাই, তাদের ঘরবাড়ি করে দিয়েছি। তাদের জন্য স্বাধীনতার ভাতা, বৈশাখী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
সরকার প্রধান আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছি। যার ফলে মুক্তিযোদ্ধারা অত্যন্ত মাথা উঁচু করে বলতে পারেন যে হ্যাঁ আমরা মুক্তিযোদ্ধা, তার সন্তানরা যেন বলতে পারেন আমারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। এই সম্মানটা আমরা দেবার চেষ্টা করেছি।
একাত্তর/আরবিএস
