মার্কিন ভিসা নীতি কার্যকরের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, এ বিষয়ে দু'দিন আগে কিছুটা ধারণা দেয়া হয়েছিল। কতজন এর শিকার হবে, এটার উত্তর সরকারের জানা নেই। সংখ্যাটি বড় নয়, বেশ ছোট।
তিনি বলেন, আর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।
মার্কিন ভিসা নীতির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার একাধিক বাংলাদেশির ওপর নতুন ভিসা নীতি প্রয়োগ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মে মাসে ঘোষিত ভিসা নীতি প্রথম আসে। মার্কিন প্রশাসনের শুরু করার ঘোষণা নতুন কিছু নয়। সরকার বা দলের বিরুদ্ধে নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কথা বলা হয়েছে। কালকেও প্রধানমন্ত্রীর সাথে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কথা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের শর্ত অনুসারে, বাংলাদেশ ভালো করছে। যে কয়েকজনের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে, খুব যাচাই-বাছাই করে করা হচ্ছে। অতীতে বিরোধী দলগুলো যেমন ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি ছিলো, তারাও সংশোধন করে কর্মসূচি দিচ্ছে। এ নীতি সকল দলের জন্য প্রযোজ্য।
কাজের কোনো সমস্যা হলে, মার্কিন প্রশাসনের সাথে কথা বলা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলাপ আলোচনায় অনেক কিছু উত্তরণ করা সম্ভব। সারকারি কাজে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সমস্যা হলে, প্রয়োজনে কথা বলে ঠিক করা হবে।
বিরোধী দল বলতে বিএনপি ও জামায়াতের কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভ্যান্তরীণ বিষয় নিয়ে কোনো দেশ হস্তক্ষেপ করুক এটা বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না।
শাহরিয়ার আলম বলেন, জনবিচ্ছিন্ন একটি দল এক দফা নিয়ে আছে। তারা তো, নির্বাচনকে হতে দিতে চায় না। আওয়ামী লীগ আইন অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে। নির্বাচনের আগে ও পরে সবার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে।
তিনি বলেন, যাদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস জ্বালাও পোড়াও। তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জান মালের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেবে। এতে কোনো ইস্যু নয়।
বিএনপি সেদিক দিয়ে নিঃসন্দেহে চাপে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এরমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্ষবেক্ষক পাঠাবে না। নিজেরাই তারা এ ঘোষণা দিয়েছে। সরকার আগে থেকেই জানতো। সরকার কে চাপে ফেলার জন্য এটা নয়। সরকার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। কোনো চাপ অনুভব করছে না।
তিনি বলেন, এগুলো পরিষ্কার বার্তা দেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। নির্বাচনের আগে আর কোনো নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা নেই। অভ্যান্তরীণ রাজনীতিতে তারা হস্তক্ষেপ করবে না এটা পরিষ্কার।
