বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে হতাহতের ঘটনায় ঢালাওভাবে মামলা ও আসামি না করার আহবান জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার কমিশন এ আহবান জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্র জনতার আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের ফলপ্রসূতায় জনমনে স্বস্তি এসেছে। এ আন্দোলনের ছাত্র-জনতার আত্মোৎসর্গের জন্য জাতি কৃতজ্ঞ। অপরপক্ষে যেসব প্রাণহানি হয়েছে, সে বিষয়ে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় হচ্ছে বহু মামলা। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনায় ঢালাওভাবে মামলা ও আসামি করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মামলাগুলোতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা ও মনগড়া এজাহার দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।
নানা অসঙ্গতিতে মামলাগুলো গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে এবং প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে উল্লেখ করে কমিশন বলছে, ফলে একদিকে যেমন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি/পরিবার ন্যায়বিচার বঞ্চিত হওয়ার সম্মুখীন হচ্ছে, অপরদিকে অনেক নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারে। মামলা হলেই যাতে নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিতে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ সবাইকে আহবান জানান।
অসঙ্গতিপূর্ণ, হয়রানি ও উদ্দেশ্যমূলক মামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বরং শুধু নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করার আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।
কমিশন চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন বলেন, নির্বিচারে ও ঢালাওভাবে আসামি করে মামলা দায়ের কোনোভাবে কাম্য নয়। এটি অনৈতিক এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন। মামলাগুলো বস্তুনিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা নিরূপণ করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির হাত থেকে মুক্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সব অংশীজনের দায়িত্ব। যথাযথ যাচাই-বাছাই করে মামলা করা না হলে প্রকৃত অপরাধী পার পেয়ে যেতে পারে। তা বাধাগ্রস্ত করতে পারে নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে।
সচিবদের যে নির্দেশ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত হলেন লুৎফে সিদ্দিকী