গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমিশনের বার্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে কলকাতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ফারাক্কার একাধিক স্থানে গঙ্গার পানির বর্তমান অবস্থা দেখে গেছেন। এর আগে সোমবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল কলকাতায় পৌঁছায়।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা শতাব্দী এক্সপ্রেসে করে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ফারাক্কা পৌঁছান। সেখানে তাদের স্বাগত জানান ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর আর দেশপাণ্ডে।
মোহাম্মদ আবুল হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আছেন পাঁচ জন। তার চার থেকে সাত মার্চ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে আছেন, মোহাম্মদ আবু সাঈদ, মোহাম্মদ আনোয়ার কাদির, মোহাম্মদ শামছুজ্জামান, কাজী শাহীদুর রহমান, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।
ভারতের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি বিশেষজ্ঞদের বৈঠক। গঙ্গার পরিস্থিতি দেখে পানি বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেজন্যই দুই দেশের প্রতিনিধি দল ফারাক্কায় এসেছেন।
দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের দল মঙ্গলবার ফারাক্কায় একাধিক অঞ্চলে গঙ্গার পানির বর্তমান অবস্থাসহ একাধিক বিষয় দেখার কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর ছয় এবং সাত মার্চ কলকাতায় পানি বণ্টন বিষয় নিয়ে বৈঠকে বসবেন তারা।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতা এবং যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, এটি রুটিন বৈঠক। প্রতি বছর দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা গঙ্গার পানি পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেন। গত বছরও মার্চে এই বৈঠক হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ-ভারতে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক কেবল মাত্র গঙ্গার পানি বণ্টনেই সীমিত থাকছে না। ছয় মার্চ পানি বণ্টন সংক্রান্ত আলোচনার পরেই সাত মার্চ আরও অন্য কিছু বিষয় নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা হবে। তথ্য ভাগাভাগি, বন্যা রিপোর্ট, সীমান্ত নদীগুলোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের পরিকল্পনা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত সেই সভায় আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় দুই দেশের ১২ জন করে সদস্য উপস্থিত থাকবেন।

গঙ্গার পানি কতোটুকু পাবে বাংলাদেশ
বর্তমান চুক্তিতে বলা হয়েছে, গঙ্গায় যদি ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি পানি থাকে তাহলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পাবে। ৩৫ হাজার কিউসেক পাবে বাংলাদেশ। যদি দেখা যায় নদীতে ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক পানি আছে, তাহলে বাংলাদেশ ৪০ হাজার কিউসেক জল পাবে, বাকিটা ভারত পাবে। আর পানির পরিমাণ ৭০ হাজার কিউসেকের কম হলে দুই দেশের মধ্যে তা সমানভাবে ভাগ হয়ে যাবে।
