বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্পকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বর্তমান সরকার। এসব প্রকল্পের যৌক্তিকতা যাচাইয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা এক হাজার তিনশর বেশি প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে এসব তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই ছিলো একনেকের প্রথম বৈঠক, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিনের বৈঠকে মোট ১৯টি প্রকল্প উত্থাপন করা হয়েছিলো। তবে দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে অধিকাংশ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় মাত্র সাতটি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, উত্থাপিত প্রকল্পগুলোর প্রায় সবকটিতেই কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে। বিগত সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব প্রকল্প গ্রহণ করেছিলো। এখন আমরা খতিয়ে দেখছি এই প্রকল্পগুলো বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বিগত সরকারের সময় নেওয়া ১৩০০ অধিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিরূপণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা কতোটুকু তা এই কমিটি বিশ্লেষণ করবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একনেক বৈঠকের আগে ও পরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি প্রতিনিধিরা। সকাল পৌনে ১০টায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর দুপুরে সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
