ভারতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির মাধ্যমে ভোট চুরি করার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ জন্য ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত হতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে জেলেও যেতে হবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা।
রোববার রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র এক মহাসমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় রাহুল গান্ধী এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ কর্মসূচি এবং ভোটার তালিকার নানা অনিয়মের প্রতিবাদে 'চলো দিল্লি' পদযাত্রা শেষে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রামলীলা ময়দানে দেয়া বক্তব্যে রাহুল গান্ধী বলেন, এই ভোট চুরি কোনো সাধারণ চুরি নয়। এটি ভারতের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠকে চুরি করা, যাকে এক কথায় বলা চলে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’।
তিনি আরও দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমারের সহায়তা ছাড়া নরেন্দ্র মোদী যেমন প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, তেমনই অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। ২০২৪ সালের নির্বাচন সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। নির্বাচনের পর ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, অথচ গত নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে এনডিএ জোটের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। করোনা মহামারীর সময় নিজের দেওয়া পূর্বাভাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাহুল বলেন, "আমি যা বলি তা সত্যি হয়। ভারতবাসীকে বলে রাখছি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো হবে এবং ওনাকে জেলেও যেতে হবে।
এ ছাড়া আরএসএস ও বিজেপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষা থেকে শুরু করে তদন্তকারী সংস্থা—দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে কবজা করা হয়েছে। সংবিধানকে অবমাননা করে অর্থের শক্তিতে রাজনীতি চালানোর অভিযোগ তুলে তিনি ‘শিবজির বরযাত্রী’র রূপক ব্যবহার করে বলেন, কংগ্রেস এমন এক ভারত চায় যেখানে যে কারও অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে।

সমাবেশে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, কেন্দ্রসহ মহারাষ্ট্র, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বর্তমান সরকার হলো ভোট চুরির সরকার। তিনি বলেন, মোদী সরে গেলেই কেবল দেশের গণতন্ত্র বাঁচবে। কর্মসূচিতে সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধীদের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিরোধী জোটের এই তীব্র আক্রমণের বিপরীতে পাল্টা প্রচার ও কঠোর জবাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। একই দিন হরিয়ানার ফরিদাবাদে বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রায় অংশ নিয়ে দলটির শীর্ষ নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।
অন্যদিকে গোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেন, বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে।
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বিগত ২০ বছরে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং প্রায় ২০ কোটি ভোটার মারা গেছেন। ফলে সঠিক ভোটার তালিকা তৈরির অংশ হিসেবে ১৩ কোটি ভুয়া বা অনুপযুক্ত নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে (যার মধ্যে ২.৮ কোটি মৃত ব্যক্তি) এবং ১.৯ কোটি নতুন যোগ্য ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শেখাওয়াত প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মূল ভিত্তি হলো নিখুঁত ভোটার তালিকা। কংগ্রেস কি পরিষ্কার ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে, নাকি নির্বাচনী স্বচ্ছতার বিরোধী, তা তাদের স্পষ্ট করা উচিত।
তথ্যষূত্র: এনডিটিভি
