আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি পুরো উপজেলাভিত্তিক ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমদ এসব তথ্য জানান।
ইসি সচিব আখতার আহমদ জানান, একটি উপজেলার যতোগুলো ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে, সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সম্পূর্ণ উপজেলাতেই একযোগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রক্রিয়ায় সদরের ইউনিয়নগুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে কোন কোন ইউনিয়নে ভোট নেওয়া হবে, তার চূড়ান্ত তালিকা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে কমিশন প্রকাশ করবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইসি সচিব জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। তিনি বলেন, আমরা ইভিএম ব্যবহার করব না। মেশিনগুলো ধ্বংস বা অপসারণ করার লক্ষ্যে চূড়ান্ত স্টক টেকিং শুরু হয়েছে। কোন পদ্ধতিতে এগুলো ডিসপোজ করা হবে, সে বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে।
ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি ডেটাবেইজের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে আখতার আহমদ জানান, বর্তমানে ভোটার নিবন্ধনের জন্য ১৬ বছর বয়স থেকে নাগরিকের তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তবে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ও বারবার তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা রোধে একদম প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে প্রবেশের সময় সংগৃহীত তথ্য নিয়ে একটি স্থায়ী ডেটাবেইজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে কমিশন।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছয় বছর বয়স থেকেই নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত তথ্য নিবন্ধনের বিষয়টি ভাবছে ইসি। সচিব বলেন, তথ্য বারবার পরিবর্তনের যে সুযোগ বা প্রবণতা রয়েছে, তা কমাতেই এনআইডি নিবন্ধনের বয়সসীমা শিথিল ও প্রাথমিক শিক্ষা স্তর থেকে শুরু করার এই আগাম উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
