নরসিংদীর রায়পুরা ও মনোহরদী উপজেলার তিনটি আলাদা স্থানে বজ্রপাতে এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর এলাকার ফকিরের চর, নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এবং মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পাতরদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ফকিরের চর গ্রামের মোমরাজ মিয়ার স্ত্রী শামসুন নাহার (৪৫), গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার ছেলে জাবেদ মিয়া (১২) ও পাতরদিয়া গ্রামের মৃত বাদল মিয়ার ছেলে প্রবাসফেরত রায়হান মিয়া (২৫)।
নিহত শামসুন নাহারের স্বজনরা জানান, সকালে খড়ের গাদা তৈরি করার জন্য বাড়ির পাশের একটি জমিতে খড় আনতে যান তিনি। এসময় বৃষ্টির সাথে ব্যাপক বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রায়পুরা থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) ফয়সাল আহমেদ জানান, খবর পেয়ে স্বজনরা শামসুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে।
এদিকে, দুপুর ২টার দিকে নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুরে বাড়ীর সামনের মাঠে ফুটবল খেলছিল কয়েকজন কিশোর। এসময় বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হলে জাবেদ, শিমুল (১১), রিয়াজুল (১২) ও হাসান (১১) আহত হয়।
এদের মধ্যে জাবেদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন
নিলক্ষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান শামীম বলেন, বাচ্চারা মাঠে ফুটবল খেলছিলো। এসময় বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, দুপুর দুইটার দিকে বাড়ির পাশের ঈদগাহ মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন কাতার প্রবাসী রায়হান মিয়া। এসময় বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ চাঁদের বিরুদ্ধে শেরপুরে মামলা
পরে তাকে উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন মাসের ছুটিতে একমাস আগে রায়হান কাতার থেকে দেশে আসেন। ঈদের পরে আবার কাতার চলে যাওয়ার কথা ছিল তার।
দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফ মাহমুদ খাঁন বাহালুল বলেন, রায়হানের বাবাও কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। আজকে সে বজ্রপাতে মারা গেলো। তার মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
একাত্তর/এসজে
