বুড়িগঙ্গার পাড় থেকে ডকইয়ার্ড সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেখানে ডকইয়ার্ডর স্থান ঠিক হয়েছে সেখানে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উৎপাদন ব্যয়
বাড়বে।
তবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আশ্বস্ত করেছেন, পরিকল্পিতভাবে আধুনিক সব ব্যবস্থা রেখেই ডকইয়ার্ড স্থানান্তর করা হবে।
গত এক দশকে দেশে বেড়েছে নৌযানের সংখ্যা, তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন আকৃতির নিত্য নতুন সুবিধাসম্পন্ন নৌযান। ফলে বাড়ছে ডকইয়ার্ডের সংখ্যা ও ব্যস্ততা।
সরকারি হিসাব বলছে, অপরিকল্পিত ৯৭টি ডকইয়ার্ডের কারণে দিন দিন সরু হচ্ছে বুড়িগঙ্গা। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নদীর গতি প্রবাহ। সমস্যা হচ্ছে নৌযান চলাচলেও।
ঢাকা নদীবন্দরের সদরঘাট টার্মিনাল দেশের ব্যস্ততম নদী টার্মিনাল।এসব কারণে গেলো কয়েক বছর ধরেই বুড়িগঙ্গার তীর থেকে ডকইয়ার্ড সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সমীক্ষা করে কেরাণীগঞ্জের আনু বাজার, নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলি আর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার চর কিশোরগঞ্জে তিনশ’ একরের তিনটি স্থান ডকইয়ার্ডের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
এ জন্য এক হাজার ৮০৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর সঙ্গে একটি চুক্তিও সই হয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় ৭০ বছর আগে গড়ে ওঠা এই জাহাজ নির্মাণ শিল্প এখন হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যে রুপ নিয়েছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের।
তারা বলছেনন, চার স্লিপারের একটি ডর্ক ইয়ার্ড নির্মাণের খরচ প্রায় ১০ কোটি টাকা। এটি স্থানান্তর করা হলে ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগ করতে হবে।
তবে, নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলছেন, নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার কথা ভেবে তিনটি স্থান বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। ডকইয়ার্ডগুলো স্থানান্তর হলে দূষণ মুক্ত হবে বুড়িগঙ্গা।
তিনি আরও বলেন, তিন বছর আগেই জাহাজ মালিকদের সঙ্গে আমাদের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল। সেখানে বুড়িগঙ্গা থেকে ডকইয়ার্ড স্থানান্তর নিয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ঢালাইয়ের সময় ছাদ ধসে পাঁচ শ্রমিক আহত
বিআইডব্লিউটি বলছে, ৯৭টি ডকইয়ার্ডের মধ্যে অনুমোদন নেই ৬৭টির। অথচ তাদের কর্মকাণ্ডে কখনও কখনও বুড়িগঙ্গায় নৌ চলাচলের জন্য জলপথ নেমে আসে ১০০ মিটারের নিচে।
এ অবস্থায় এসব ডকইয়ার্ড কেরাণীগঞ্জে ধলেশ্বরীর তীরে স্থানান্তর করে আধুনিক ডকইয়ার্ড নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
একাত্তর/আরবিএস
