পুরোটা নয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হবে চলতি বছরের অক্টোবরে। আর ভিভিআইপি টার্মিনালসহ পুরো কাজ শেষ হবে আগামী বছরের ডিসেম্বরে। এই তৃতীয় টার্মিনাল বদলে দেবে বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকল্প পরিদর্শন করে একথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ওপরের দিকের তাকালে পদ্মফুলের নকশা চোখে পড়ছে। মূল ভবনের কিছু অংশ জুড়ে স্টিল ফ্রেমের এই নকশা বসাতে দিন রাত কাজ করছেন শ্রমিকরা। অনেক জায়গায় বসেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কাঠামো।
সব মিলে কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। অক্টোরের মধ্যে শেষ হবে ৯৩ শতাংশ। তখনই একটি পাশের বোর্ডিং ব্রিজসহ টার্মিনালের কিছু অংশ ব্যবহার উপযোগী হবে। তাই অক্টোবরেই আংশিক উদ্বোধন করতে চায় সরকার।
মঙ্গলবার তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি দেখতে এসে সাংবাদিকদের এমন কথাই জানান বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আশা করছি অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রী শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের আংশিক অংশ উদ্বোধন করবেন। করোনার মধ্যেও এই কাজ এগিয়ে নিয়েছি। থার্ড টার্মিনাল এখন দৃশ্যমান। ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন রকমের যন্ত্রাংশ আসছে, সেগুলো ইনস্টল করা হচ্ছে। অক্টোবরে মূল ইনফাস্ট্রাকচারের কাজ শেষে হবে।

প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী আরও বলেন, বিমানবন্দর একটি স্বাধীন দেশের গেটওয়ে। বিদেশ থেকে যারা আসবেন তারা যেন বিমানবন্দরে নেমেই এদেশের উন্নতির বিষয়ে ধারণা নিতে পারেন। আমাদের মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে। পাতাল রেলের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। এখন সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনালের দিকে।
তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের কাজের মান নিয়ে কোনও আপোস করা হয়নি, ভবিষ্যতেও করা হবে না। দরপত্রে উল্লেখিত মানের পণ্যই প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা হবে, অন্য কোনো কিছু গ্রহণ করা হবে না। রাষ্ট্রের এক পয়সা ক্ষতি হয়, এমন কিছু এখানে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তৃতীয় টার্মিনালের প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। সেই সময়ের মধ্যেই প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ হবে। আর ভিভিআইপি টার্মিনাল, বোর্ডিং ব্রিজসহ প্রকল্পের যে বাড়তি কিছু কাজ হাতে নেয়া হয়েছে, সেগুলো শেষ হতে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। তখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে তৃতীয় টার্মিনাল।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবারও সব আদালত বর্জন আইনজীবিদের
সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল এম মুফিদুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পে আমাদের সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এই কারণে আমরা কিছু অতিরিক্ত কাজ যুক্ত করেছি, সেজন্য একটু সময় লাগবে। কিন্তু, আমরা তো টার্মিনালটা ফেলে রাখব না।
তিনি বলেন, বলেন, টার্মিনালটা হওয়ার কথা ছিল ১২টা বোর্ডিং ব্রিজ নিয়ে, সেই জায়গায় পুরো কাজ সম্পন্ন হলে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ হবে। এতে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে। যেখানে ১২ মিলিয়ন যাত্রী হওয়ার কথা, সেখানে আরও ১৬ মিলিয়ন যাত্রী আমরা অতিরিক্ত নিতে পারছি।
এছাড়া, আরেকটা ভিভিআইপি টার্মিনাল হবে বর্তমানে রানওয়ের পশ্চিম পাশে। ধাপে-ধাপে সেই টার্মিনালের কাজ শেষ করা হবে বলেও জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
একাত্তর/এসি
