ডবল স্টিকার লাগানো এবং নিষিদ্ধ প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির অপরাধে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
এর মধ্যে আলমাস’কে ৭০ হাজার এবং মোস্তফা মার্ট ও ইংলটকে ২০ হাজার করে জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিদপ্তর বলছে, ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করলে কোনো ছাড় নেই।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বিপণীকেন্দ্র বসুন্ধরা সিটিতে অভিযানে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
শুরুতে মোস্তফা মার্টে গিয়ে দেখা গেলো- দামসহ আমদানিকারকের স্টিকারের পশে নিজেদের স্টিকারও লাগিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় তাদের।
বিএসটিআই কর্তৃক নিষিদ্ধ ফোর’কে প্লাস নাইট ক্রিম বিক্রি করার পাশাপাশি পণ্যের গায়ে দুই স্টিকার লাগানোর অপরাধে আলমাসকে জরিমানা করা হয় ৭০ হাজার টাকা।
যদিও জরিমানার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি আলমাস কর্তৃপক্ষ। এরপর অভিযান চলে আরেকটি প্রসাধন সামগ্রীর আউটলেটে।
ইংলট নামে এই প্রতিষ্ঠানের দাবি, তারা প্রসাধনী আমদানি করে বিক্রি করে, অথচ দাবির সপক্ষে আমদানির কোনো নথি দেখাতে পারেনি ইংলট।
ফলে এই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় ২০ হাজার টাকা। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বললেন, ঈদের বাজারে ভোক্তাকে ঠকালে আরও কঠোর হবেন তারা।

এদিকে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানিয়েছেন, আইনি সীমাবদ্ধতায় আরও কঠোর হতে পারছেন না তারা।
শনিবার এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোক্তার অধিকারের জন্য ভোক্তাকেই আওয়াজ তুলতে হবে। না হলে কিছুই অর্জন করা যাবে না।
তিনি বলেন, ভোক্তারা যদি সচেতন না হয়, নিজের অধিকারের কথা নিজে প্রতিষ্ঠা না করে, তাহলে শুধু ভোক্তা অধিদপ্তর দিয়ে এটি কখনোই সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশের দ্রব্যমূল্য বাড়ার পেছনে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট যেমন আছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ অনেক বিষয়েও অসঙ্গতি আছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ার পেছনে আমাদের কর্পোরেট কালচারও দায়ি।
ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রধান বলেন, দ্রব্যমূল্য বাড়ার আরেকটি কারণ ব্যবসায়ীদের মানিসকতা। সব পণ্যে অতি মুনাফা লাভের জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
একাত্তর/এসি
