বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের পর আদালতে গিয়ে তাকে ক্ষমা করে দিতে বলেছেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।
সোমবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আবেদন করেন হিরো আলম। মহানগর হাকিম সাইফুল ইসলাম বাদীর জবানবন্দি শুনে গোয়েন্দা পুলিশকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
হিরো আলমের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই রাজশাহীর ভুবন মোহন শহীদ মিনার পার্কে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় তাকে ‘অর্ধপাগল ও অর্ধশিক্ষিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কেউ যাতে আমাকে গালি না দেয় তাই আমি মামলা করেছি। আমার জানের ভয় আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আদালতে বলেছি, মানুষ বলতেই ভুল আছে। তাকে (রুহুল কবির রিজভী) মাফ করে দেয়া হোক। ভবিষ্যতে আমাকে কেউ কটূক্তি করলে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।’
আশরাফুল আলমের আইনজীবী আবদুল্লাহ মনসুর রিপন বলেন, আমরা ৫০১ এবং ৫০৬ ধারাকে উপলক্ষ করে মামলাটি ফাইল করেছি। হিরো আলম দেশ এবং বিদেশে অত্যন্ত আলোচিত একজন ব্যক্তি। তার সম্পর্কে গত শনিবার এবং ১৮ জুলাই মামলার আসামি কটূক্তি করেছেন। যা আক্রমাণত্মক হয়েছে এবং মানের হানি ঘটেছে। তার ভক্তদের মধ্যে অন্য ধরনের একটি মেসেজ গিয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় আদালত আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শুনেছেন এবং ডিবিকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের সংবিধান বানাতে চায় বিএনপি: আমু
আদালত আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
রোববার রিজভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যান হিরো আলম। ডিবি কার্যালয়ে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও দেখেন হিরো আলম, যেখানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হাজারো জনতার সামনে বক্তব্যে তার প্রসঙ্গ টানেন।
‘বক্তব্য প্রদানকালে বলেন যে, হিরো আলমের মত একটা অর্ধ পাগল, অর্ধ শিক্ষিত, একটা লোক, সে নির্বাচন করছে, মানে রুচি কতটা বিকৃত হলে পরে এরা এ কাজ করতে পারে।’
অভিযোগে হিরো আলম বলেন, ‘আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ২০১৮ সালে বগুড়া-০৪ আসন থেকে এবং ২০২৩ সালে বগুড়া ০৪ আসন ও বগুড়া ০৬ আসন এবং ঢাকা ১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি । বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের চুলচেরা বিশ্লেষণে আমি একজন সুস্থ, নিবার্চন করার জন্য উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে তিনবার প্রমাণিত হয়েছি।’
‘তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করি। যাতে আমার অসংখ্যা ভক্তবৃন্দ আছে। বর্ণিত বক্তব্যের কারণে আমি হতাশা অনুভব করছি, আমার ভক্তবৃন্দের মাঝেও যথেষ্ট হতাশাসহ ক্ষোভ বিরাজ করছে।’
হিরো আলম আর বলেন, ‘জনাব রুহুল কবির রিজভীর আক্রমণাত্মক মানহানিকর বক্তব্যের কারণে আমি মান-সম্মানহানিসহ সামাজিকভাবে চরম হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। উল্লেখ্য যে, বিএনপির বিভিন্ন প্রোগ্রামে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে আমাকে নিয়ে কটূক্তি ও আক্রমণাত্মক মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে অপমান-অপদস্থ করেছে । তাছাড়া তার (রিজভী) এই অপমানকর/আপত্তিকর বক্তব্যের কারণে আমি বিএনপির নেতা/কর্মী তথা রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের হামলা/হয়রানির আশঙ্কা করিতেছি।’
হিরো আলমের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোববার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তো তার পক্ষে ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এই অভিযোগটি মিথ্যা।’
একাত্তর/আরএ
