ঋণের টাকা শোধ না করতে পেরে ছেড়েছেন ঘর, সব খুইয়ে এখন নিজের কিডনি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে ঘুরছেন জাতীয় কিডনি হাসপাতালে। বলছি দিনাজপুরের রনজয় রায়ের কথা। তিনি জানিয়েছেন, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তার সাড়ে ৩ বছরের একমাত্র ছেলেকে বন্ধক রেখে ঋণের টাকা শোধ করতে বলেছেন, তাই অনেকটা নিরুপায় হয়েই নিজের কিডনি বিক্রির জন্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে লিফলেট বিলি করছেন রনজয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাতে কাগজ নিয়ে জাতীয় কিডনি হাসপাতালের সামনে ঘোরাফেরা করছিলেন এক যুবক। হাসপাতালে আসা মানুষদের কাছে বিলি করছিলেন হাতের কাগজ। মিনতি করছিলেন হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদের কাছেও।
কাছে যেতেই জানালেন তার নাম রনজয়। বিলি করছেন নিজের কিডনি বিক্রির লিফলেট। এভাবে কিডনি বিক্রি করা বেআইনি এমনটা বুঝিয়েও লাভ হচ্ছে না। সিদ্ধান্তে অনড় রনজয় অনবরত কাঁদছিলেন। কিডনি বিক্রি করে ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেতে চান তিনি। নয়তো পরিবারের ৬ সদস্যকে নিয়ে পথে বসতে হবে তাকে। মাস দুয়েক আগেই বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে বাবা।
অসহায় যুবক রনজয় রায় জানান, বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভাড়ার টাকাও ছিলো না তার কাছে। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় তার বাবার।
তার মাও চিকিৎসার অভাবে ঘরে পড়ে আছেন। কোনোভাবেই মায়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে পারছেন না ছেলে রনজয়।
রনজয়ের দুর্ভোগের শুরু পাঁচটি এনজিও ও একটি ব্যাংক থেকে নেয়া প্রায় ৬ লাখ টাকার ঋণ। ব্যবসা করছিলেন দিনাজপুরে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই সেই ব্যবসা বন্ধ হলে শুরু হয় ঋণ শোধের তাগাদা। পাওনাদাররা নিয়ে যায় বাড়ির ফ্রিজ আর পালিত ছাগল। সবশেষ শর্ত দেয়া হয়েছে ছোট্ট শিশুকে বন্ধক রাখার।
ঢাকায় এসে কাজ নেন জুতার দোকানে। আপাতত এতেই চলছে সংসার। কিন্তু ঋণ শোধের উপায় কি?
রনজয় রায় বলেন, এনজিও লোকরা আমার বাচ্চা বন্ধক দিয়ে হলেও টাকা শোধ করতে বলে। আমি জানি না বাবা হিসেবে আমার এখন কী করা উচিত।
জানান, পাওনাদারের চাপ সইতে না পেরে দুইবার আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন। আরেকবার পরিবারের সবাইকে নিয়েই হাঁটেন মৃত্যুর পথে। কিন্তু ছোট্ট সন্তানের দিকে তাকিয়ে ফিরে আসেন সেই পথ থেকে।
দিনাজপুরে রনজয়ের বাড়িতেও নূন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। তার স্ত্রী ও এলাকাবাসী জানান ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় প্রতিদিনই হেনস্থার শিকার হচ্ছে পরিবারটি।
যে প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়ার ঋণের কারণে বাচ্চা বন্ধক রাখার কথা বলা হয়েছে, সেখানে ক্যামেরার সামনে কেউ কথা বলতে চাননি। তবে বাচ্চা বন্ধকের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান; এভাবে চাপ দেয়া হলে সেটি অন্যায় হয়েছে।
রনজয়ের চাওয়া আপাতত ঋণের টাকা শোধ করার একটা কোন উপায়। জীবনের বাকি রুটি রুজি সে নিজেই ব্যবস্থা করতে পারবে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড: ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছেন নিহতের স্বজনরা