ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যান্সার ফাউন্ডেশন গত বছর ১৪২০ জন ক্যান্সার রোগীকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। এই সেবার মধ্যে রোগীদের হাসপাতাল ভর্তির ব্যবস্থা, প্রতিদিন অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে যাতায়াত, কাউন্সেলিং এবং নিয়মিত ফলো-আপসহ নানা সুবিধা রয়েছে।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাগিচা রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মো. নওফেল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হয়েছে ২০০৩ সালের ২১ মার্চ। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে ক্যান্সার রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচী নিয়েই এ প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি একটি ক্যান্সার হোম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি হাসপাতালে থাকার মতো করে ক্যান্সার রোগীদের থাকা, চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন নিজস্ব এ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়মিত যাতায়াত, কাউন্সিলিং, নিয়মিত নার্স ও চিকিৎসকের মাধ্যমে ফলোআপ, দুই বেলা পুষ্টিকর নাশতা, তিন বেলা নিয়ম মাফিক খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে।
ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে অধ্যাপক নওফেল বলেন, ২০০৩ সালে চিকিৎসক দম্পতির ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলের চিকিৎসা তহবিলের অব্যবহৃত অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় দিগন্ত মেমোরিয়াল। এছাড়া সদস্যদের চাঁদা, অনুদান এবং যাকাত থেকেও প্রতিষ্ঠানটি অর্থ সংগ্রহ করে।
প্রতিষ্ঠানটি সরকারের অনুমোদিত এবং এনবিআর থেকে রিবেট পাওয়া একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সায়েবা আক্তার। তিনি ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা এবং কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য, এবং এর মধ্যে এইচপিভি ভ্যাকসিন অন্যতম। তিনি আরও বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, ফলে শুধু রোগী নয়, তাদের পরিবারও আর্থিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং স্ক্রিনিংয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর বক্তারা বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। সেগুলো হলো-
- ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কর্মসূচী হাতে নেয়া।
- ক্যান্সার রোগীদের মানবিক মূল্যবোধ থেকে মূল্যায়ন করা।
- ক্যান্সার চিকিৎসাকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করা।
- ক্যান্সার রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠান সমূহে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করা।
- যাতায়াত যেমন, বাসভাড়া, ট্রেন ভাড়া, বিমান ভাড়া ইত্যাদিতে ৭৫% ছাড় দিয়ে ২৫% ভাড়া নির্ধারণ করা।
- দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিভাগীয় ক্যান্সার হাসপাতালসমূহ বাস্তবায়ন করা।
- জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালসহ সমুদয় ক্যান্সার চিকিৎসা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জনবল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
- ক্যান্সার নির্ণায়ক কেমিক্যাল রি-এজেন্টস্ ও রেডিওথেরাপী মেশিন, ঔষধ ইত্যাদির উপর সরকারী শুল্ক প্রত্যাহার করা।
- ক্যান্সার চিকিৎসাকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসা।
- ক্যান্সার রোগী নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া।
