বিএনপি ঈদের দিনেও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করতে ছাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে ঈদের আনন্দ একেবারের ম্লান হয়ে গেছে, বাস্তবের চিত্র এমন নয়। কোরবানির পশুর সংখ্যা গেলো বছরের থেকে বেশি। পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হয়েছো পাঁচ কোটি, বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় হয়েছে চার কোটি। তাহলে সমস্যা শুধু বিএনপির।
এর আগে সোমবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদের নামাজ শেষে নানা ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাই এবারের ঈদে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ নেই।
ফখরুলের এমন অভিযোগের জবাবে কাদের বলেন, মূল্যস্ফীতির কথা সরকার অস্বীকার করে না। দেশে মূল্যস্ফীতি আছে ১০ শতাংশ। সত্য চাপা দিচ্ছে না সরকার। তবে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, আমিতো ঈদের দিনে বিরোধীদলকে কোনো কটাক্ষ করিনি। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। ঈদের দিনটা অন্তত পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থাকি।
তিনি বলেন, গতবছর ঈদুল আজহার প্রথমদিনে এক কোটি তিন হাজার কোরবানি হয়েছিল, এবার প্রথম দিনেই তিন লাখ বেশি হয়েছে। আজ ও কাল সময় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে এ কথা স্বীকার করি। তবে পাকিস্তানের মতো ২৫ শতাংশ, তুর্কিয়ের মতো ৭০ শতাংশ কিংবা আর্জেন্টিনার মতো ৩০০ শতাংশ হয়নি।
এদিকে মিয়ানমার ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে কাদের বলেন, সার্বভৌমত্বের প্রতি কোথায় আঘাত হলো? সেন্টমার্টিন থেকে জাহাজ সরে গেছে, ভেতরে যারা অনুপ্রবেশ করেছিল তাদেরও তারা ফিরিয়ে নিয়েছে। আরাকান বিদ্রোহীদের একটি গুলি সেন্টমার্টিনের দিকে এসেছিল। তারা তো সেদেশের সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে, মিয়ানমারের যে সরকার, যেভাবেই থাক। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা বা সংঘাত, সরকারের পক্ষ থেকে উসকানি দেয়া হয়নি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আমরা তো মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের আগেই বলেছি, আমরা কাউকে উসকানি দিবো না। তবে আক্রান্ত হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি এবং তারা দায়িত্বে থাকার সময় কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারের নজরে আসার আগে কীভাবে ব্যবস্থা নেবে, ব্যক্তির দুর্নীতি তখন দুদকও তদন্ত করেনি, তখন আমরা কি করে জানবো। দুদকও এবং বিচার বিভাগ স্বাধীন তারা যে কারো দুর্নীতি তদন্ত করতে পারে, মামলা করতে পারে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রকম বাধা দেয়া হয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেননি। যেই হোক তাকে বিচারের আওতায় আসতে হবে। কিন্তু যদি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসনামলের কথা বলি তখন কিন্তু অনেক দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ছিলো। তাদের বিচার হতো না।
ঈদে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ নেই: ফখরুল