নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে একটি ‘নতুন যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ বিএনপির ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে এটি এখন আর কেবল কোনো দলের ইশতেহার নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠন—যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সারাদেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম বড়ো কোনো সাংগঠনিক বৈঠক।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, স্বৈরাচারী আমলে ভিন্নমত দমনে যে নির্যাতন-নিপীড়নের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিলো, বর্তমান সরকার তা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। দেশের নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সরকারকে সফল করতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইশতেহার বাস্তবায়নের এই যুদ্ধে আপনাদের শামিল হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, জনগণের চাহিদা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করাই এই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। গণতান্ত্রিকভাবে গঠিত এই সরকারকে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কীভাবে সহায়তা করবে, সেই লক্ষ্যেই আজকের এই সভা। এর মাধ্যমে কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা হচ্ছে।
যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না বলেন, সরকার, রাষ্ট্র এবং দলের মধ্যে সমন্বয় রেখে কীভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পেয়েছি। আমরা সেই অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যাবো।
শনিবার বেলা ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তৃণমূলের নেতারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। সভায় সারাদেশ থেকে আসা সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
