মাঠে নামার আগেই মাঠের বাইরের মস্ত বড় এক ধাক্কা খেল দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ফুটবল দল। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে আগামী ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার কথা ‘বাফানা বাফানা’ খ্যাত দলটির। কিন্তু আর মাত্র ১১ দিন বাকি থাকতে খোদ স্বাগতিক দেশ মেক্সিকোর ভিসা না পাওয়ায় উত্তর আমেরিকার বিমানই ধরতে পারল না তারা!
রোববার দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে এই চরম লজ্জাজনক খবরটি নিশ্চিত করেছে।

পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রোববার সকালে জোহানেসবার্গ থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে মেক্সিকো সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল পুরো দলের। কিন্তু স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এবং অফিশিয়ালদের মেক্সিকান ভিসা সময়মতো না আসায় শেষ মুহূর্তে বিমানটি গ্রাউন্ডেড বা স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। অথচ এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ শনিবারই জোহানেসবার্গের রাস্তায় হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে দলকে এক রাজকীয় ও জমকালো বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।
২০১০ সালে নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করার পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া দলটির এমন বিদায় উদযাপনের পর, ওআর টাম্বো বিমানবন্দরে গিয়ে আটকে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছে।
এই নজিরবিহীন ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গেটন ম্যাককেঞ্জি। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একে চরম লজ্জাজনক এবং অন্যায্য বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী সরাসরি বলেন, আমাদের পুরো বিশ্বের সামনে বোকা বানানো হচ্ছে।
এই কেলেঙ্কারির পর ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (সাফা) রোববার বিকেলেই একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। সাফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভিসা সমস্যার দ্রুত সমাধানে আমরা চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করছি। তবে যতদিন বিমান ওড়ার অনুমতি না মিলছে, ততদিন বাফানা বাফানা জোহানেসবার্গেই অনুশীলন চালিয়ে যাবে। কোচ হুগো ব্রুস গত বুধবারই তাঁর ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছিলেন, যারা আগামী ৫ জুন জ্যামাইকার বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা।

তবে ভিসা জটলার তালিকায় এবার দক্ষিণ আফ্রিকাই একমাত্র দল নয়! একই ধরণের প্রশাসনিক গ্যাঁড়াকলে পড়ে নাকাল হচ্ছে ইরান ফুটবল দলও। আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ শুরু করবে ইরান। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরান স্কোয়াডের সদস্যদের আমেরিকার ভিসা দেয়নি মার্কিন প্রশাসন। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, ফিফা ইতিমধ্যেই ইরান ফুটবল ফেডারেশনকে আশ্বস্ত করেছে, প্রশাসনিক কাজ চলছে এবং এই সপ্তাহের মধ্যেই ভিসা চলে আসবে।
আমেরিকার মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার আশায় ইরান দল গত সপ্তাহেই তাদের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করেছে।
বিশ্বকাপের এ-গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকার সূচি অনুযায়ী, ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার পর, ১৮ জুন চেক প্রজাতন্ত্র এবং ২৪ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে লড়বে তারা। তবে তার আগে আমলান্ত্রিক এই ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ পেরিয়ে ব্রুসের শিষ্যরা আদৌ কবে মেক্সিকোর মাটিতে পা রাখতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
