আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠক করেছে সাত শিল্পোন্নত দেশ জি-৭। যা "হিরোশিমা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়া" নামে পরিচিত কাঠামোর অংশ।
সংবাদমাধ্যম এনএইচকের খবরে বলা হয়েছে, জাপানের হিরোশিমায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে তুলে ধরা কাঠামোর ধারাবাহিকতা হিসেবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনলাইনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
চ্যাট জিপিটির মতো জেনারেটিভ এআই এর ঝুঁকি এবং এর উপকারিতা, উভয় দিক চিহ্নিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো সম্মত হয়েছে। ভুল তথ্য মোকাবিলা করা এবং কপিরাইট সুরক্ষিত রাখার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
বৈঠকে বিশ্বাসযোগ্য কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা এগিয়ে নিতে সাধারণ কিছু নিয়মাবলী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ধরে মৌলিক কয়েকটি মতামত প্রণয়নের জন্য চলতি বছরের শেষ নাগাদ জি-৭ মন্ত্রীদের একটি বৈঠকে মিলিত হওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।
তবে জেনারেটিভ এআই বিষয়ে জি-৭ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যেখানে ইউরোপের দেশগুলো কঠোর নিয়ম এবং বাধ্যবাধকতা দেখতে চায়। অন্যদিকে জাপানসহ অন্য দেশগুলো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নয়ন উৎসাহিত করার ওপর মনোনিবেশ করতে চাইছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত সম্প্রসারণে গোপনীয়তা এবং তথ্য ফাঁস বিষয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মাবলী নিয়ে জি-৭ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতৈক্য অর্জিত হয় কিনা তা এখন দেখার বিষয়।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবজাতিকে বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এই ক্ষেত্রের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই সেফটি সেন্টারের ওয়েবপেজে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে কয়েক ডজন বিশেষজ্ঞ এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, মহামারী এবং পারমাণবিক যুদ্ধের মতো ঝুঁকির পাশাপাশি এআই থেকে বিলুপ্তির ঝুঁকি হ্রাস করাকে বিশ্বব্যাপী অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
আরও পড়ুন: বাজেট নিয়ে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শুরু
উল্লেখ্য, জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন) হচ্ছে জাপান, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত একটি সংঘ। এ সাতটি দেশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল স্বীকৃত বিশ্বের সাতটি মূল উন্নত অর্থনীতির দেশ। যারা বৈশ্বিক সম্পদের শতকরা ৬৪ ভাগের প্রতিনিধিত্ব ($২৬৩ ট্রিলিয়ন)।
আগে এটি ছিল 'জি-৮', কিন্তু ২০১৪ সালের ক্রিমিয়া সংকটে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার কারণে ২০১৪ এর ২৪ মে রাশিয়াকে জি-৮ থেকে বাদ দেয়া হয়।
একাত্তর/আরবিএস
