বিশ্বের নামী ব্র্যান্ডের যে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা গ্যাজেটের দাম বাংলাদেশের বেশিরভাগ ক্রেতার সামর্থ্যের বাইরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে আধুনিক প্রডাক্টগুলো বাজারে আনেনা। এই বাস্তবতাটা ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সময়ই উপলব্ধি করেছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা হাবীব মনসুর।
স্নাতকোত্তর শেষে দেশে ফিরেই ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব ব্র্যান্ড- এক্সপার্ট। হাবীবের উদ্দেশ্য ছিলো, আন্তর্জাতিক মানের প্রডাক্ট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে যেন দেশের মধ্যবিত্তরা বঞ্চিত না হন। লক্ষ নির্ধারণের পর মাঠে নেমে পড়েন হাবীব। অল্পদিনের মধ্যে খেয়াল করেন, শুধু মান আর দামই সব না। বাংলাদেশে ক্রেতাদের কাছে জাতীয়তাবোধও অনেক বড় একটা বিষয়।

যে কোনো ডিভাইসে মেড ইন বাংলাদেশ কিংবা বাংলা ভাষার ব্যবহারের উপর এদেশের মানুষের আলাদা আবেগ কাজ করে। হাবীবের নতুন মিশন শুরু হয়- ইলেকট্রনিক ডিভাইসে বাংলা ভাষার সংযোজন। কিন্তু শুরুটা কোথা থেকে হবে? সাম্প্রতিক সময় স্মার্ট ওয়াচের কদর বেড়েছে কয়েকগুণ। চলন্ত পথে বারবার পকেট থেকে মুঠোফোন বের করে কথা বলা, এএমএস কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন চেক করা যথেষ্ট ঝক্কি-ঝামেলার। ফলে মানুষ স্মার্টফোনের পাশাপাশি স্মার্ট ওয়াচও কিনছেন।
মুশকিল হলো সব স্মার্ট ওয়াচের স্ক্রিনে ইংরেজি-কোরিয়ান-চাইনিজ এমনকি হিন্দি ভাষাতে নোটিফিকেশনে দেখা যায়। কেবল বাংলাটাই সেখান উপেক্ষিত। যখনই বাংলায় কোনো নোটিফিকেশন আসে, স্মার্টওয়াচের স্ক্রিনে কয়েকটি বক্স আসছে। উদ্যোক্তা হাবীব মনসুর এই সংকটের সমাধান নিয়েই কাজ করা শুরু করলেন। দেশের বাজারে প্রথমবারের মত স্মার্ট ওয়াচে যুক্ত করলেন বাংলাভাষা। নাম দিলেন-এক্সপার্ট স্মার্ট ওয়াচ।

একাত্তরকে নিজের বাংলা স্মার্ট ওয়াচ তৈরির গল্প বলছিলেন হাবীব। জানান, বাংলা ভাষা ও বাংলা থিমের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি যুক্ত করতে পারাটা গর্বের। স্মার্টওয়াচের থিমে বাংলাদেশের পতাকা, বায়তুল মোকাররমের ছবি, জাতীয় ক্রিকেটারদের ছবি, জাতীয় ফুল শাপলার ছবিও যুক্ত করা হয়েছে। জানান, এখন দেশের বাজারে এক্সপার্টের ছয়টি স্মার্ট ওয়াচ পাওয়া যাচ্ছে।
ভাষা হিসেবে বাংলাকে নির্বাচন করার পাশাপাশি ফুল ফেইজ অপারেশনের জন্য এই স্মার্ট ওয়াচের রয়েছে নিজস্ব এপ্লিকেশন- X-fit By Xpert। অ্যাপেল স্টোর ও গুগলের প্লে-স্টোর, দুটো জায়গা থেকেই অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে। সবগুলো স্মার্ট ওয়াচই ওয়াটার প্রুফও, ব্লুটুথ কলিং সাপোর্ট- এক্ষত্রে ব্লুটুথে ৫.৩ ভার্সন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়াচে থাকছে অতিরিক্ত এক সেট বেল্ট।

এক্সপার্টের ওয়াচগুলোর সবচেয়ে বড় চমক এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি। সাধারণত বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচে সার্ভিস ওয়ারেন্টি থাকে। তবে এক্ষেত্রে এক্সপার্ট স্মার্ট ওয়াচের কোনো প্রোডাক্ট এক বছরের মধ্যে সমস্যা হলে সেই ওয়াচটি বদলে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্মার্টওয়াচ দেয়া হবে।
এক্সপার্টের সব স্মার্ট ওয়াচেই রয়েছে ১০-১৫ দিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী একবার পূর্ণ চার্জ দিয়ে অনায়াসে ১০ থেকে ১৫ দিন ব্যবহার করতে পারবেন। অধিকাংশ স্মার্ট ওয়াচের ক্ষেত্রে সবগুলো সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া না গেলেও, এই ব্র্যান্ডের ৬টি স্মার্ট ওয়াচের সবগুলোতেই রয়েছে কলিং ফিচার।
এক্সপার্টের প্রাইম, ভোগ, রক, ক্লাসিক,স্লিক, স্টার নামের এসব স্মার্ট ওয়াচগুলো ২,২০০ টাকা থেকে ৪,০০০ টাকার মধ্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তা হাবীব জানান, সারাদেশে সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে নষ্ট প্রোডাক্টটিকে কোনো রকমে ঘষামাজা করে পুনরায় ক্রেতাদের ফেরত দেয়া হয়ে থাকে। এই ধারা বদলে আমরা এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি সুবিধা চালু করেছি। এক বছরের মধ্যে প্রোডাক্টে কোনো সমস্যা হলে সেই প্রোডাক্ট বদলে নতুন আরেকটি প্রোডাক্ট দেয়া হবে, যা দেশীয় মার্কেটে আমরাই প্রথম দিচ্ছি।
এক্সপার্ট দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আজওয়া টেকের একটি ব্র্যান্ড। যে আজওয়া টেকেরও প্রতিষ্ঠাতা এই উদ্যোক্তা নিজেই। বর্তমানে দেশের বাজারে আছে এক্সপার্টের বিভিন্ন ধরনের মোবাইল এক্সেসরিজ এবং স্মার্ট ডিভাইস আছে। যেমন- নেকব্যান্ড, স্পিকার, ওয়্যারলেস হেডফোন, পাওয়ার-ব্যাংক, চার্জারসহ বিভিন্ন পণ্য। হাবীব জানালেন একে একে সব কিছুতেই বাংলার ব্যবহার করতে চান তিনি।
এআই মানুষের বিকল্প নয়, সহায়ক