মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়েছিল আসপিয়ার। এক খণ্ড জমি না থাকায় মেধাবী এই তরুণীর স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছিল। মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়েও শুধু ভূমিহীন হওয়ার কারণে পুলিশের চাকরি প্রায় হাতছাড়ার উপক্রম হয়েছিল তার। কিন্তু অবশেষে খবর এলো সেই আকাশের নিচে তার ঘর হবে, থাকবে জমিও।
গত বুধবার থেকেই দেশে তোলপাড় আসপিয়াকে নিয়ে। পুরো নাম আসপিয়া ইসলাম কাজল। পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে বরিশাল জেলায় শরীরিক, লিখিত ও মৌখিকসহ সাত ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন হিজলা উপজেলার বাসিন্দা এই তরুণী।
কিন্তু বরিশাল জেলার স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে নিয়োগ থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।
হতাশায় সেদিনই বরিশাল পুলিশ লাইন্সের গেটে দীর্ঘক্ষণ বসেছিলেন আসপিয়া। তবে সেদিন নেটিজেনরা বসে থাকেননি। চাকরিটি যেন আসপিয়া পায় এই জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেয় সেই ছবি।
এরপরই খোলো আশার দুয়ার। বিষয়টি নজরে আসে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দারের। পরে তিনি আসপিয়াকে ঠিকানা গড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
জেলা প্রশাসক জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে চলমান আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় আসপিয়ার পরিবারকে ঘর ও জমি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে।
টেলিফোনে তিনি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে জানান, ভূমিহীন এবং গৃহহীনদের ঘর উপহার দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রকল্পে আসপিয়া নিজের একটি ঘর প্রাপ্য। আগামী প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ হবে শিগগিরই। ওই ধাপে তাকে উপহার দেবো।
আর এমনটি হলে নিয়ম মেনে পুলিশে চাকরি পেতে আর বাধা থাকবে না আসপিয়ার।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৫ বাস কোম্পানির রুট পারমিট বাতিলের সুপারিশ
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, আসপিয়ার বিষয়ে জেলা দ্রুত ভূমিহীন ওই পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সকালে আসপিয়াকে কার্যালয়ে ডেকে বিস্তারিত জেনেছি।
তিনি আরও বলেন, বিকেলে আসপিয়াকে নিয়ে খাস জমি দেখতে যাবো। জমি পছন্দ হলেই দ্রুত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
একাত্তর/এসি
