ইরানে পুলিশি হেফাজতে নিহত কুর্দি তরুণী মাশা আমিনির কবরে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ করেছে শত শত মানুষ।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাকেজ শহরে শত শত নারী-পুরুষকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে।
এসময় তাদেরকে 'নারী, জীবন, স্বাধীনতা' ও 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। মাশা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া আন্দোলনে এ দু'টি জনপ্রিয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে।
বুধবার মাশা আমিনির মৃত্যুর পর ৪০তম দিনে সাকেজসহ কুর্দিস্তান প্রদেশের কয়েকটি স্থানে প্যারামিলিটারি বাসিজ রেজিস্ট্যান্স ফোর্স মোতায়েন করা হয়।
তবে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, তাদেরকে উপেক্ষা করে হাইওয়ে ও মাঠ পেরিয়ে আইচি কবরস্থানের দিকে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
সেখানে মাশার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। তবে মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, কবরস্থানে কোনো ধরনের শোক অনুষ্ঠান না করতে মাশার পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়েছে।
এদিকে সাকেজের পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে দাবি করেছেন কুর্দিস্তানের গভর্নর ইসমাইল জারেই কুশা। মাশার মৃত্যুর ৪০ দিন পূর্তিকে শত্রুরা ও গণমাধ্যম নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: 'সন্ত্রাসী প্রোপাগান্ডার' অভিযোগে তুর্কি চিকিৎসক গ্রেপ্তার
উল্লেখ্য, 'সঠিকভাবে' হিজাব না পরায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে আটক হন ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাশা আমিনি। পুলিশ হেফাজতে কোমায় চলে যাওয়ার তিনদিন পর তার মৃত্যু হয়।
মাশার পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের অত্যাচারের কারণে মাশার মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ দাবি করেছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মাশার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনার পর দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস।
