দুই বিচারকসহ নাজিরের অপসারণের দাবি আদায় না হওয়ায় আবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব আদালত বর্জন করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন আদালত প্রাঙ্গনে আসা কাছে ও দূরের বিচার প্রত্যাশীরা। এমন অচল অবস্থায় হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেকেই। তবে সমিতি কার্যালয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন আইনজীবিরা।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়ায় এ কর্মসূচি পালন শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবি সমিতি।
সরেজমিন, এদিন সকাল থেকে কোনো আদালতেই বিচারিক কাজে আইনজীবির অংশ নেননি। আইনজীবিদের সমিতি ভবনে অবস্থান নিয়ে সময় কাটাতে দেখা গেছে। দূর দূরান্তের বিচার প্রত্যাশীদের হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। সৃষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অঙ্গনে আবারও নতুন করে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির বিশেষ সাধারণ সভা শেষে এই ঘোষণা দেন জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাড. তানভীর ভূঞা।
তিনি বলেন, দাবি আদায়ে আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবিরা জেলা জজ আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল -১ আদালত ছাড়া বাকি আদালতে যাওয়া শুরু করেছিল। কিন্তু আইনমন্ত্রীর আশ্বস্ত করা বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন নীলফামারীর তিন আইনজীবী
উল্লেখ্য, আইনজীবিদের অভিযোগ, গত এক ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আইনজীবিরা মামলা দাখিল করতে গেলে বিচারক মোহাম্মদ ফারুক মামলা না নিয়ে আইনজীবীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় ২৬ ডিসেম্বর সমিতির সভা করে আইনজীবিরা এক জানুয়ারি থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। এদিকে বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে চার জানুয়ারি কর্মবিরতি পালন করেন আদালতের কর্মচারীরা। এ অবস্থায় জেলা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ও আদালতের নাজির মোমিনুল ইসলামের অপসারণ চেয়ে পাঁচ জানুয়ারি থেকে পুরো আদালত বর্জনের লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন আইনজীবিরা।
এছাড়াও বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অশালীন শ্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবি সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৪ আইনজীবিকে দুই দফায় তলব করে উচ্চ আদালত। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনজীবিদের সঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বৈঠকের পর দুটি আদালত বাদে বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।
একাত্তর/এসি
