সিরিয়াল কিলার জাভেদ ইকবাল

একশ’ নাবালককে খুনের পরও ফাঁসিতে ঝুলানো যায়নি!

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৩, ১১:৩১ পিএম

একের পর এক খুন করে যারা, তাদের বলা হয় সিরিয়াল কিলার। ভয়ঙ্কর সব অপরাধীদের তালিকায় শীর্ষেই থাকে এমন ঘাতকরা। এদের নিয়ে পৃথিবীর সব দেশের কম-বেশি আলোচনা হয়ে থাকে। নির্মাণ করা হয়েছে বহু লোমহর্ষক সিনেমাও।

তেমনই এক সিরিয়াল কিলারের নাম জাভেদ ইকবাল। পাকিস্তানের এক খুনির হাতে বলি হতে হয়েছে অসংখ্য নবালককে। ছয় থেকে ১৬ বছরের বয়সী শতাধিক নাবালককে যৌন নির্যাতন করে খুন করে ফেলার অভিযোগ রয়েছে এই নরপিশাচের বিরুদ্ধে। 

নামী পরিবারে জন্ম নেয়া জাভেদ নিজেই স্বীকার করেছেন শতাধিক নাবালককে শ্বাসরোধ করে খুন করার কথা। খুন করার পর প্রমাণ মুছে ফেলতে দেহ টুকরো করে এসিডের মধ্যে ফেলে দিতেন। দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর জাভেদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। 

image


রায় ঘোষণার সময় বিচারক বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, যেসব বাবা-মায়ের সন্তানকে তুমি হত্যা করে ছিলে, তাদের সামনেই তোমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হবে। তার পর তোমার শরীরকে ১০০ টুকরো করে এসিডে ছুড়ে ফেলা হবে। ঠিক যেভাবে তুমি ওই নাবালকদের হত্যা করেছিলে।

তবে এই শাস্তি অনুমোদন পায়নি। ফাঁসির রায় কার্যকর করার আগেই ২০০১ সালের ৯ অক্টোবর জাভেদ ও তার সহযোগী সাজিদ আহমদকে কোট লাখপত কারাগারে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বলা হয় দুজনেরই আত্মহত্যা করেছেন। এনিয়ে সেই সময়ে তুমুল সরগোল হয়।

তৈরি হয় ব্যাপক বিতর্কের। অভিযোগ উঠে, কারাগারেই খুন করা হয়েছে জাভেদ এবং তার সহযোগীকে। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ জানান, আত্মহত্যা করেছেন জাভেদ এবং তার সহযোগী। জাভেদের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহও নিতে কেউ আসেননি।

image


জাভেদের জন্ম ১৯৫৬ সালে। এক মুঘল মুসলিম পরিবারে। জাভেদের বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। জাভেদের বাবা এক জন ব্যবসায়ী ছিলেন। লাহোরের ইসলামিয়া কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে পড়াশোনা করতে তিনি স্টিলের ব্যবসা শুরু করেন। 

১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে লাহোর পুলিশ এবং এক সংবাদপত্রের প্রধান সম্পাদকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। জাভেদ ইকবালের পাঠানো সেই চিঠি পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুলিশ এবং ওই সংবাদপত্রের প্রধান সম্পাদক। সেই চিঠিতে একশ নাবালককে হত্যার কথা জানায় জাবেদ।

চিঠিতে জাভেদ দাবি করেন, তিনি যাদের খুন করেছেন তাদের বেশিরভাগই বাড়ি থেকে পালানো এবং লাহোরের রাস্তায় বাস করা নাবালক। তিনি আরও জানান, খুনের পর এসিডে পুড়িয়ে বাকি দেহাবশেষ কাছেই একটি নদীতে ফেলে দেয়া হতো। 

image


এসব নাবালকদের কাছে গেমিং আর্কেড ছিলো ভীষণ জনপ্রিয়। আর জাবেদ ইকবাল সেই ব্যবসা খুলে বসেছিলেন তাদেরকে শিকারের জন্য। কম্পিউটার গেম খেলতে আসার নাবালকদের সঙ্গে তিনি খাতির করতেন তাদের গেম খেলার কয়েন দিয়ে। 

জাভেদ আরও জানান, অনেক সময় মাটিতে কয়েন ফেলে রাখতেন তিনি। যে নাবালক কয়েন তুলে নিতো তাকে চুরির দোষে পাকড়াও করে পেছনের একটি ঘরে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালিয়ে খুন করতেন। নাবালক শিকারে তাকে বেশ কয়েকজন সাহায্যও করতো।  

চিঠি পেয়েই জাভেদের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশ আসার আগে পালিয়ে যান তিনি। জাভেদের বাড়ির ভেতরে পুলিশ ও সাংবাদিকরা দেয়াল এবং মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পায়। সেই অস্ত্রও উদ্ধার হয় যা দিয়ে জাভেদ খুন করতেন।

প্লাস্টিকের ব্যাগে এবং কিছু ডায়েরিতে জাভেদের হাতে খুন হওয়া অনেক নাবালকের ছবি উদ্ধার করে পুলিশ। পাওয়া যায় দেহাবশেষসহ দু’টি এসিডের ট্যাঙ্কও। বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর্তৃপক্ষের হাতে প্রমাণ তুলে দিতেই ইচ্ছা করে সব প্রমাণ প্রকাশ্যে রাখা হয়েছিল।

image


শুরু হয় জাভেদকে ধরতে শুরু পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম বড় পুলিশি অভিযান। এর মধ্যেই ১৯৯৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর এক সংবাদমাধ্যমের অফিসে গিয়ে দেখা করেন জাভেদ। সেই সূত্র ধরেই এক মাস পর জাবেদকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পাকিস্তানের পুলিশ। 

ধরা পড়ার পর জাভেদ ইকবাল জানায়, নাবালক হত্যায় তাকে সাহায্য করেছেন অনেকে। সেই সব সহযোগীদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হবার পর জাভেদ জানান কি কারণে তিনি একের পর নাবালককে হত্যা করেছিলেন। 

নব্বইয়ের দশকে জাভেদের বিরুদ্ধে নিখোঁজ এক নাবালকের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনে লাহোর পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অপরাধ প্রমাণ হয়নি। কিন্তু জাভেদের মা ছেলের গ্রেপ্তারি ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে হার্টঅ্যাটাকে মারা যান। 

আরও পড়ুন: আকাশে চন্দ্রবিন্দু, আসলে কী ছিল?

এই ঘটনার পর জাভেদ ইকবাল নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেন, ১০০ জন মায়ের কোল উজাড় করে তাদের কাঁদতে বাধ্য করবেন তিনি। আর সেই কারণেই তিনি ১০০ নাবালককে অত্যাচার করে খুন করে তাদের দেহ টুকরো করে এসিডে চুবিয়ে নদীতে ফেলে দিতেন।

গেলো বছরই পাকিস্তানে জাভেদ ইকবালের কাহিনী নিয়ে পাকিস্তানে একটি সিনেমা মুক্তি পাবার কথা ছিলো। কিন্তু ‘জাভেদ ইকবাল: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ এ সিরিয়াল কিলার’ নামে ছবিটির মুক্তি আটকে দেয় পাকিস্তানের একটি আদালত। 


একাত্তর/এসি

সম্প্রতি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ব্যাপক বেসামরিক নাগরিক নিহতের জেরে এবার পাকিস্তান সীমান্তে পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগান তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,...
শনিবার করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলায় তিন সেনা নিহত হওয়ার পর রোববার আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া, কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়...
আফগানিস্তান সীমান্তে আবারও প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার (২৯ জুন) পূর্ব আফগানিস্তানে চালানো এই হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে আফগান সরকারের পক্ষ...
ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা, লেবাননে ভঙ্গুর পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকির মধ্যেই এক টেবিলে বসে ‘ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতি অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। একটি চূড়ান্ত শান্তি...
নুহাশপল্লীর সবুজ নিস্তব্ধতায় ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই সমাধি প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। শ্বেতপাথরের সমাধিটি ভরে যায় ভক্তদের আনা ভালোবাসার অর্ঘ্যে। কারো হাতে ছিল প্রিয় লেখকের প্রিয় ফুল, কারো হাতে তার...
স্পেন ফুটবল দলের জন্য বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানোটা এখনও বেশ নতুন একটা অনুভূতি, কারণ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে তারা এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের শেষ লড়াইয়ে পা রেখেছে। তবে দলটির অধিনায়ক...
রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শফিক নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। ফাঁসির আদেশের...
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পড়তে আসা এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতনের দৃশ্য নিজেই ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এক মাদ্রাসাশিক্ষক। ভিডিওটির ক্যাপশনে ওই শিক্ষক লেখেন, ‘পিচ্চি...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর