ইয়েমেনের সানায় যুদ্ধবিরতির জন্য হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধি দল।
সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এই আলোচনায় ইয়েমেনের প্রতিবেশী ওমানের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করবে। খবর: রয়টার্স।
শুক্রবার এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় জড়িত দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানায় বার্তা সংস্থাটি।
গত মাসে চীনের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব ও ইরান। এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংঘাত ও উত্তেজনা নিরসনে ইতিবাচক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে সৌদি আরব ও ইরান পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছিলো।
ওমানের মধ্যস্থতায় সানায় সৌদি কর্মকর্তাদের সফর এবং ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলমান সংঘাত নিরসনে অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত যা জাতিসংঘের শান্তি প্রচেষ্টার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে ওমান বিবদমান সৌদি আরব ও ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ইয়েমেনে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্য স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
যদি যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয় তাহলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে এই ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে এই বিষয়ে সৌদি আরব ও জাতিসংঘ সমর্থিত ইয়েমেন সরকার রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
২০১৪ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব সামরিক জোট। বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইয়েমেনের উত্তরাংশ। এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনি জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু, সরকারি কর্মীদের মজুরি প্রদান, একটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনার ওপর মনোযোগ দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
আরও পড়ুন: এবার ম্যাঁক্রোর পছন্দের রেস্তোরাঁয় আগুন দিলো ক্ষুব্ধ ফরাসিরা
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনা ব্যর্থ হলে হুথিদের সঙ্গে পুনরায় সরাসরি আলোচনা শুরু করে সৌদি আরব। সংঘাতের অবসানে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রত্যাশা করছে জাতিসংঘ। যে প্রক্রিয়ায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ঐক্য সরকারের দিকে এগিয়ে যাবে বিবদমান পক্ষগুলো।
একাত্তর/জো
