দীর্ঘ ২৫ বছর ৭ মাস ২৬ দিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা।
রোববার সকাল ১১টায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মুক্তির আদেশনামা আসে। বিকেলে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান এ মুক্তিযোদ্ধা।
এসময় কারাগার ফটকে ফুল দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: হুমায়ুন কবির চেয়ারম্যান ও জেলা সভাপতি তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ পরিবারের সদস্যরা রাখাল চন্দ্র নাহাকে শুভেচ্ছা জানান।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড জানায়, দেশে যখন কোনো যুদ্ধাপরাধীদের ফাসিঁ হয়নি তখন মুক্তিযোদ্ধা রাখাল নাহার ফাসিঁ হয়। আর তাই তারা আন্দোলন করেন। আজ যখন যুদ্ধাপরাধীদের ফাসিঁ হয়েছে তখন মুক্তিযোদ্ধা রাখাল নাহা মুক্তি পান, এতে সকলে আনন্দিন।
১৯৯৯ সালের একটি ষড়যন্ত্রমূলক খুনের মিথ্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন দেবিদ্বার হোসেনপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল নাহা। তিনি ওই গ্রামের অক্ষয় চন্দ্র নাহার ছেলে। ওই হত্যার ঘটনার দিন তিনি বাড়ি ছিলেন না। হতদ্ররিদ্র মুক্তিযোদ্ধা রাখাল নাহাকে ২০০৩ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২০০৮ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্তও হয়।
আরও পড়ুন: পাইলটদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ন্যাটোর গড়িমসি, হতাশ জেলেনস্কি
পরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর (বীর উত্তম) আবেদনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি তার সাজা মওকুফ করে যাবজ্জীবন দেয়। ২৫ বছর ৭ মাস ২৬ দিন রেয়াতসহ রাখাল নাহার মুক্তির সুপারিশ করা হয় ২০১৫ সালে। তখন তিনি মুক্তি পাননি। অবশেষে জেল গেইটের তালা খুললো রোববার বিকেল ৪টায়। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বের হলেন মুক্তিযোদ্ধা রাখাল নাহা।
এর আগে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নাহাকে দেখতে গিয়েছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
একাত্তর/আরবিএস
