সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ করেছে পোল্যান্ড। আশির দশকের পর সবচেয়ে বড় এই কুচকাওয়াজে অত্যাধুনিক অস্ত্রের সংগ্রহ প্রদর্শন করেছে।
মঙ্গলবার ছিল ১৯২০ সালের ওয়ারস যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পোল্যান্ডের বিজয়ের ১০৩তম বার্ষিকী। সেবার পোলিশ সৈন্যরা ইউরোপে অগ্রসর হওয়া বলশেভিক বাহিনীকে পরাজিত করেছিল।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসনের পর পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে দেশটির ক্ষমতাসীন জাতীয়তাবাদী দল ল এন্ড জাস্টিস (পিআইএস)।
অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারাভিযান পুরোদমে চলছে। মঙ্গলবার সামরিক অস্ত্রের বিশাল প্রদর্শন সরকারকে তার নিরাপত্তা সক্ষমতা প্রচারের সুযোগ দিয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ও পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা অনুষ্ঠানে তার উদ্বোধনী বক্তৃতায় বলেন, ‘আমাদের পূর্ব সীমান্তে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সীমান্তে প্রতিরক্ষা আজ পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় স্বার্থের একটি মূল উপাদান’।
রাজধানীতে সাদা-লাল জাতীয় পতাকা নেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আব্রামস ট্যাঙ্ক, হিমারস মোবাইল আর্টিলারি সিস্টেম এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম দেখতে হাজির হন হাজার হাজার মানুষ।
এছাড়াও প্রদর্শনীতে ছিল এফ-১৬ ফাইটার প্লেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এফএ-৫০ ফাইটার এবং কে৯ হাউইটজার। আকাশে ইউএস এয়ার ফোর্সের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ওড়ার শব্দ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পোল্যান্ড এই উন্নত ফাইটার প্লেনগুলোও কিনছে। ক্র্যাব ট্র্যাকড বন্দুক হাউইটজার এবং রোসোমাক সাঁজোয়া পরিবহনসহ পোলিশ তৈরি সরঞ্জামও প্যারেডে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পোল্যান্ড এবং অন্যান্য ন্যাটোভুক্ত দেশের প্রায় দুই হাজার সেনার পাশাপাশি ২০০টি সামরিক যান, অন্যান্য সরঞ্জাম এবং প্রায় ১০০টি বিমান কুচকাওয়াজে অংশ নেয়।
আরও পড়ুন: বর্ণবাদের কারণে পালিয়েছেন মার্কিন সেনা: উত্তর কোরিয়া
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিউস ব্লাসজ্যাক ভিস্তুলা নদীর কাছে জড়ো হওয়া সৈন্য ও দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘১৫ আগস্ট ওয়ারস যুদ্ধের বিজয়ী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য সমসাময়িক সৈন্যদের ধন্যবাদ জানানোরও একটি সুযোগ’।
‘এটি আমাদের শক্তি দেখানোর জন্যও এটি একটি ভালো দিন, এটি দেখানোর জন্য যে আমরা শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছি যা বিনা দ্বিধায় কার্যকরভাবে আমাদের সীমান্ত রক্ষা করবে’, বলেন তিনি।
একাত্তর/এসজে
