ঘরে বসেই কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন, কয়েকদিনেই বিনিয়োগ হবে দ্বিগুণ, কোটিপতি হতে এ ব্যবসায় যুক্ত করতে হবে; এভাবেই অনলাইনে ফিরে এসেছে এমএলএম বাণিজ্য।
এমটিএফইর প্রতারণার পর এখন জানা যাচ্ছে, অতীতেও এধরণের অ্যাপের ফাঁদে শত কোটি টাকা হারিয়েছে মানুষ। লোভের ফাঁদে পড়ে অনুমোদনহীন এমন ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি প্রকাশ করতে চাননা অনেকে। ফলে অনেকটা নীরবেই চলছে ভয়াবহ এসব প্রতারণা।
শুধু এমটিএফই নয় অতীতেও বহু অ্যাপের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। ফরেন মার্কেটে বিনিয়োগ, ডলার কিংবা স্বর্ণ ক্রয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিট কয়েন কেনা বেচার নামে এখনও অনলাইনে সক্রিয় এমন শত শত অ্যাপ। ঘরে বসে লাখ লাখ টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে চলছে মানুষের টাকা হাতিয়ে নেয়া। এসব অ্যাপের ফাঁদে পা দিচ্ছে দেশের প্রান্তিক এলাকার মানুষ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অ্যাপের প্রতারণার দায় এড়াতে পারে না প্রশাসন।

সূত্র জানিয়েছে, এমন শত শত অ্যাপ দেশের প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত তাদের প্রতারণার জাল বিছিয়ে রেখেছে। গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সূচকের ওঠানামা, আর বিনিয়োগের সার্বিক চিত্র, প্রতিদিনের আয়ের চমক দেখিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করাই তাদের কাজ।
ক্রিপ্টোকারেন্সি, স্বর্ন, বিট কয়েন বা ফরেক্সমার্কেটে বিনিয়োগের কথা বলে এখনও সক্রিয় বাইবিট, বাইন্যান্স, মোবিক্রিপ্ট, ফিনটোচ, গোল্ড কয়েন, হিলটন মেটা, ক্রাউন ওয়ান নামের শত শত অ্যাপ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এমটিএফই নামের অ্যাপটি বিদেশ থেকে পরিচালিত হলেও এর দেশীয় চক্রটির পেছনে রাজনৈতিক মদদ ছিলো।

কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এম এ মাসুম বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লোপাটের এ ঘটনায় দায় এড়াতে পারেনা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ নজরদারি সংস্থাগুলো।
এদিকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতারণায় জড়িত এই অ্যাপগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে তারা তদন্তে নেমেছে।
অবৈধ এসব অ্যাপ বন্ধে দ্রুত বিটিআরসির ভূমিকার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাত্তর/এসি
