সুনামিতে বিধ্বস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়া শুরু করেছে জাপান। আর এর পরই জাপান থেকে সব ধরণের সামুদ্রিক খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন।
বৃহস্পতিবার চীনের একজন কাস্টমস কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেছেন, জাপানের খাদ্য ও কৃষি পণ্য চীনে রপ্তানি করায় তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন চীন। খবর: রয়টার্স।
ফুকুশিমা দাইচি প্ল্যান্টটি সুনামিতে ধ্বংস হওয়ার পর তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ছাড়ার ব্যাপারে দুই বছর আগে জাপান সরকার ও জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা একমত হয়।
প্ল্যান্ট অপারেটর টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার (টেপকো) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর একটা তিন মিনিটে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। সমুদ্রের পানির পাম্প বা আশেপাশে কোনও অস্বাভাবিকতা সনাক্ত হয়নি বলে জানায় তারা।
তবে, চীন এই পরিকল্পনার দৃঢ় বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, জাপান সরকার পানি নিষ্কাশনের বৈধতা প্রমাণ করেনি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, জাপানি পক্ষের উচিত নয় নিজের স্বার্থপরতার জন্য স্থানীয় জনগণের এমনকি বিশ্বের জনগণের ক্ষতি করা।
এদিকে, টোকিও ‘বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন দাবি’ ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে চীনের সমালোচনা করেছে।
এই পানির নির্গমন নিরাপদ বলে দাবি করে তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) উপসংহারে এসেছে যে মানুষ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাব হবে ‘নগণ্য’।
২০১১ সালের মার্চে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে ফুকুশিমা দাইচি প্ল্যান্টটি ধ্বংস হয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে অল্প অল্প করে অতিরিক্ত সতর্কতার সাথে তেজস্ক্রিয় পানি নির্গমন করা হবে। প্রথম দফায় ১৭ দিন ধরে মোট সাত হাজার ৮০০ ঘনমিটার পানি ছাড়া হবে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টেপকো পরীক্ষার ফলাফল অনুসারে, এই পানিতে প্রতি লিটারে প্রায় ৬৩ বেকেরেল ট্রিটিয়াম রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে, খাবার পানিতে প্রতি লিটারে নিরাপদ তেজস্ক্রিয়তার সীমা ১০ হাজার বেকেরেল। বেকেরেল হল তেজস্ক্রিয়তার একক।
আরও পড়ুন: ইরান, সৌদি আরবসহ ব্রিকসে নতুন ছয় দেশকে আমন্ত্রণ
এক বিবৃতিতে আইএইএ বলেছে, তাদের স্বাধীন অন-সাইট বিশ্লেষণ নিশ্চিত করেছে যে, ট্রিটিয়াম ঘনত্ব বিপৎসীমার অনেক নিচে।
জাপানের পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, দেশটি ওই এলাকার চারপাশে পর্যবেক্ষণ করবে এবং রোববার থেকে সাপ্তাহিক ফলাফল প্রকাশ করবে।
একাত্তর/এসজে
