রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছে। পশ্চিমা অস্ত্র পাওয়া না গেলে দেশটি আকাশ প্রতিরক্ষা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইনহাত বলেছেন, রাশিয়ার অবিরাম বিমান হামলা মোকাবিলায় তাদের অনেক বেশি পরিমাণে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে হচ্ছে। ফলে এগুলোর সরবরাহ প্রয়োজন। কারণ রাশিয়া বিমান হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে চলেছে। খবর এপি’র।
দেড় হাজার কিলোমিটার রণক্ষেত্রে দুই দেশের সেনারা মোটামুটি অচলাবস্থায় রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রণক্ষেত্র থেকে দূরের অবস্থানে হামলা জোরদার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনীয় আকাশ ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে ও দুর্বলতা খুঁজতে এমন হামলা চালাচ্ছে মস্কো।
কিয়েভের কর্মকর্তাদের মতে, ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত পাঁচ শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ হামলায় রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের ৫১টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের দাবি, তারা এগুলোর মধ্যে ১৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক অতীতের তুলনায় এই সংখ্যা কম। এর আগে, প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষমতা দেখিয়েছিল ইউক্রেন।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন নিজেদের সোভিয়েত আমলের এবং পশ্চিমাদের সরবরাহ করা আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে। দেশটি নিজেদের অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনীয় অস্ত্র উৎপাদন কারখানাগুলোই এখন রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
বেসামরিক এলাকা ও সেনাদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে সোমবার ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন।
ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশুসহ নিহত ১১