ফেসবুকে লাইভ চলাকালে মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের পার্টির এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর হত্যাকারী গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
নিহতের নাম অভিষেক ঘোষালাকর (৪১)। তিনি শিবসেনার (ইউবিটি) প্রাক্তন কর্পোরেটর এবং পার্টির প্রাক্তন বিধায়ক (রাজ্যসভার সদস্য) বিনোদ ঘোষালকারের ছেলে। হামলাকারীর নাম নরোনহা মরিস।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের বোরিভালিতে তার আইসি কলোনির অফিসে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, মরিস এক নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিএমসি (স্থানীয়) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার এবং অভিষেকের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ ছিল।
পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে তাদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে কাছের করুণা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই জনের মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র আইপিএস অফিসার বলেছেন, অভিষেক এবং মোরিস দুই জনেই রিভলভারের গুলিতে মারা গেছেন। অভিষেকের মরদেহ পোস্ট মর্টেমের জন্য স্যার জেজে হাসপাতালে আর মরিসের দেহ কুপার হাসপাতালে নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা পরে আরও বিস্তারিত জানাবো।
ঘটনাটি ঘটার সময় দুই জন ফেসবুক লাইভে থাকায় ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় এবং অভিষেককে মোট পাঁচটি গুলি চালানো হয়েছে বলে শোনা যায়। গুলি অভিষেকের পাঁজরের নিচে, পিঠে এবং শরীরের অন্য অংশে বিদ্ধ হয়।
লাইভ ভিডিও সেশনের চার মিনিটের ২৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দুই জনকে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে দেখা গেছে। এসময় তারা বলেন, তাদের অতীতের সব বিরোধ মিটে গেছে।
ওই ফেসবুক লাইভে মোরিস বলছিলেন, আজ আমরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা এক সঙ্গে শাড়ি এবং রেশন বিতরণ করবো। জনগণের উন্নতির জন্য এক সঙ্গে কাজ করা একটি ভালো সিদ্ধান্ত। আমরা ৩০০ জন কর্মজীবী ও অভাবী নারীকে শাড়ি বিতরণ করছি। আমরা একসঙ্গে কাজ করে কান্দার পাড়ের মানুষের সেবা করবো। আমরা এই নতুন বছরে এই শপথ নিয়েছি, যা আমাদের বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার একটি নতুন সময় শুরু হয়েছে। লাইভ শেষ হওয়ার মুহূর্তে ভিডিওতে পাঁচটি গুলি ছোরার শোনা যায়।
ঘটনার পরে, শিবসেনা (ইউবিটি) বিধায়ক এবং নেতা আদিত্য ঠাকরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, রাজ্যে গুন্ডাদের সরকার আছে। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা নেই। প্রথমে গুলি চালানো হয়েছিল কল্যাণে এবং এখন মুম্বাইতে।
শিবসেনার রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউত উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নাভিসের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, মহারাষ্ট্রে গুন্ডাদের শাসনে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং তার লোকেরা প্রতিদিন গুন্ডাদের সঙ্গে দেখা করে এবং তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে।
শিবসেনার বিলাস পোটনিস দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, মোরিস এবং অভিষেকের বিরোধের ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তাদের বিরোধ মিটে গেছে। মোরিস তার অফিসে (আইসি কলোনি এলাকায়) একটি শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে অভিষেককে ডেকেছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন সে অভিষেককে তার কেবিনের ভেতর নিয়ে যায় এবং কিছু বিতর্কের জন্য তাকে গুলি করে। রিভলভার দিয়ে গুলি ছোড়ে সে। পরে তিনি নিজেও গুলি করে আত্মহত্যা করে।
পুলিশ জানায়, মোরিসের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে মোরিস অভিষেককে হত্যা করার জন্য তার অফিসে ডেকেছিল। এর আগে বিবাদের জেরে মোরিসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেছিলেন অভিষেক।
গাজায় ইসরাইলি হামলাকে ‘বেপরোয়া’ বললেন বাইডেন