ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের সংখ্যা প্রকাশ করেছে বিআরটিএ। দৈনিক গড়ে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন মারা গেছে। বিআরটিএর এই পরিসংখ্যান বলছে, ঈদের আগে ও পরে ১৭ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৩২০ জন। আর আহত হয়েছে ৪৬২ জন।
বিআরটিএর হিসাবে ২০২৩ সালে ঈদুল ফিতর বাড়ি যাওয়া ও ফেরার সময় ১৫ দিনে ২৫৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩৯ জনের প্রাণহানি ও ৫১০জন আহত হয়। তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছিল মৃত্যুর সংখ্যা ৩২৩ আর আহতের সংখ্যা ৫৬৫।
এবার ঈদ সামনে রেখে সড়ক ও মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিট্রেট নামানোসহ নানা রকমের উদ্যোগ নেয় বিআরটিএ। ঈদের আগে পরে ১৬ দিনে সারা দেশে দুই হাজার ১১৩টি মামলা করা হয়। জরিমানা কার হয় ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি।
পাশাপাশি এবার ঈদ যাত্রায় সড়ক মহাসড়কে দূর্ঘটনায় হতাহতদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বিআরটিএ। সেই তথ্যে দেখা যায়, গেলো চার এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৯৬টি। যেখানে আহত ৪৬২ জন ও নিহত হয় ৩৪২ জন। তবে গত বছরের তুলনায় এবারে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ১৮.৭৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে বিআরটিএ।
রোববার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দেওয়া সম্ভব হলেও দুটি বড় সড়ক দুর্ঘটনা এই সফলাতে কিছুটা ম্লান করেছে।
তবে শনিবার কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে ৩৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ৪০৭ জনের, আহতের সংখ্যা এক হাজার ৩৯৮ জন।
বিআরটিএর তথ্য বলছে, এ বছর ঈদে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ও নিহত দুটোই বেশি। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ও হতাহতের সংখ্যাও বেশি। এবারে ১১৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১১৫ জন।
ফরিদপুরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষের ১৫ জন এবং ঝালকাঠিতে গাবখান সেতুর টোলপ্লাজায় প্রাইভেট কার ও ব্যাটারিচালিত অটো রিকশায় ট্রাক চাপায় ১৪ জনের প্রাণহানি নিয়েও কথা বলেন বিআরটিএ প্রধান।
দুর্ঘটনা ঘটানো দুটি গাড়ির কাগজপত্রই মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল জানিয়ে বিআরটিএ প্রধান বলেন, তাদের রেজিস্ট্রেশন সাময়িক স্থগিত করে মামলা করা হয়েছে।
এবারের দুর্ঘনটার জন্য ১০টি কারণকে সামনে আনা হয়েছে। যেখানে কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় মুক্তি দিয়েছেন।
