প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে বেশিরভাগ উপজেলাতেই প্রার্থী হয়েছেন সংসদ সদস্যের (এমপি) স্বজনরা। এরইমধ্যে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে দু'ভাগে বিভক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগ। এতে নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কা বাড়ছে।
একইভাবে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় এক প্রার্থীকে সংসদ সদস্য সমর্থন দেয়ায় উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ। এছাড়া জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় দুইবার উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে নারী চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা পেয়েছেন লাকী।
কুমিল্লার ৪টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা পদে ৩৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোহরগঞ্জে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ভাইয়ের ছেলে আমিরুল ইসলাম ও লাকসামে মন্ত্রীর শ্যালক মোহাব্বত আলী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
এর আগে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী স্বজনদের প্রার্থী করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা নিকটাত্মীয়দের প্রার্থী করছেন, ভবিষ্যতে তাদের পরিবার নিয়েই থাকতে হবে। জনগণের ভোট তারা পাবেন না।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উপজেলায় এমপিদের স্বজনদের ভোটে থাকা খারাপ। এটা করা ঠিক না। তাহলে নেতাকর্মীরা কী করবে। নেতাকর্মীদের তো জায়গার প্রয়োজন, সম্মানের প্রয়োজন। যারা এটা করছে তা খারাপ হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীর অনেক স্বজনরা ক্রমাগতভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে প্রার্থী হবার কারণে মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ এখন দু'ভাগে বিভক্ত। একদল প্রচার চালাচ্ছেন আমিরুল ইসলামের পক্ষে, আরেকদল জাকির হোসেনের পক্ষে।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন বলেন, শতভাগ সততার সাথে কাজ করেছি। শতভাগ টেকসই উন্নয়ন করেছি।
টানা তিনবারের নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আফরোজা কুসুম বলেন, নারী প্রার্থী হিসেবে আমি আশা করি সকলের কাছে বেশি সমাদৃত থাকবো।
এতে ভোটের পরিবেশ গরম থাকলেও ভোটাররা বলছেন, পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন।
একইভাবে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলাতেও সংসদ সদস্যের চাচাতো ভাই মোস্তাফিজুর রহমান ও ফুফাতো ভাই আব্দুল কুদ্দুছ নির্বাচন করছেন। এরমধ্যে আব্দুল কুদ্দুসকে সমর্থন দিয়েছেন সংসদ সদস্য।
ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (চয়ন) বলেন, প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে আমি ব্যাপকভাবে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছি। তার প্রধান কারণে হচ্ছে, আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের নামধারী একজন প্রার্থীকে দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করছেন।
প্রার্থীদের অভিযোগ, ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে সংসদ সদস্য সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা।
কৈ মাছ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রফিকুজ্জামান খোকন বলেন, আমরা যারা প্রার্থী হয়েছি আমরা যেন আমাদের অবস্থান থেকে স্বচ্ছতার মধ্যদিয়ে আমরা যেন নির্বাচনটা করতে পারি এবং সাধারণ মানুষ যেন বাঁধার মধ্যে না পড়ে। মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারে না।
এদিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দুইবার উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে নারী চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা পেয়েছেন নাজমা আক্তার লাকী।
উপজেলা নির্বাচনে সরগরম ভোটের মাঠ, জনসংযোগে ব্যস্ত প্রার্থীরা