ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে বাংলাদেশে অপহরণ ও ভারতে হত্যার দুটি মামলা দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে একযোগে চলবে। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা থাকায় এনিয়ে সমস্যা হবে না, বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ও পুলিশ কর্মকর্তারা।
এছাড়া অপহরণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন হলেও, পলাতক প্রধান অভিযুক্তকে ফেরাতে পশ্চিমা দেশগুলোর মৃত্যুদণ্ড বিরোধী অবস্থানও বাধা হবে না, বলে জানান তারা।
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে হত্যা ও লাশ গুম পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিও ঘটেছে বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে। এই ঘটনায় আনারের মেয়ে বাংলাদেশে একটি অপহরণ মামলা করেছেন। অন্যদিকে ভারতেও দায়ের করা হয়েছিলো একটি নিখোঁজের অভিযোগ।

হত্যা নিশ্চিত হবার পর মাঠে দুই দেশের পুলিশ। দুই দেশেই আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কোন দেশে চলবে বিচারকাজ?
এ ধরণের অপরাধের বিচারের জন্য ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
২০১২ সালে করা হয় আইন ও নীতিমালা। ঢাকার পাবলিক প্রসিকিউটর বলছেন, দুই দেশে একযোগে চলতেও কোনো বাধা নেই।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল্লাহ আবু বলেন, দুই দেশের এর বিচার হবে। অপহরণ ও হত্যা মামলায় বাংলাদেশে বিচার হবে। এখানে কমন আসামি আছে। আইনগতভাবে কোনো বাধা থাকবে না। প্রয়োজনের যারা এখানে আছেন তারা ভারতে গিয়ে সাক্ষী দেবেন এবং ওখানে যারা আছেন তারা এখানে এসে সাক্ষী দেবেন।

হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহিন পালিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন তাকেও ফেরানো সম্ভব।
মো. আব্দুল্লাহ আবু বলেন, আসামি আনা নেয়ার ব্যাপারে কোনো বাধা থাকতে পারে না।
এদিকে বাংলাদেশে গ্রেফতার তিনজনের কাছ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই ও তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশের তিন কর্মকর্তা ভারত যাচ্ছেন। আর ভারত থেকে আসছেন দুই কর্মকর্তা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের তিন সদস্যের একটা দল জিও পেয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ স্যারের সাথে কথা বলবো। উনার সাথে কথা বলে দলটি ভারতে যাবে,
উভয় দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের বিনিময় ও সমঝোতা থাকায় এ হত্যারহস্য উন্মোচন ও বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদী তিনি।
আনার হত্যা: শাহীনকে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে পুলিশ