দিল্লির মসনদে কি ফিরতে পারছেন না নরেন্দ্র মোদী? লোকসভা নির্বাচনের ভোটের ফল আসতে শুরু করার পর এখন এই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে। কারণ, একক দল হিসাবে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বিজেপি। তাদের জোট এনডিএ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২ আসন নিশ্চিত করার সম্ভাবনা জাগালেও, সেখানে বড় প্রশ্নবোধক হয়ে উঠেছে অন্ধ্র প্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু এবং বিহারের নীতীশ কুমার।
নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) আর নীতীশের জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) যদি এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে যেতে চায় তাহলে আর বিজেপির পক্ষে সরকার গঠন সক্ষম নাও হতে পারে। এমন ভাবনা থেকে এই দুই নেতাকে ফোন করতে দেরি করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্ধ্রে ও বিহারে বড় জয়ে নাইডু আর নীতীশকে দরাজ অভিবাদন জানান মোদী। অর্থাৎ, পাশে থাকার আকুল আবেদন।
অন্যদিকে বসে নেই কংগ্রেসও। কারণে এই দুই দলই একটা সময় কংগ্রেসের মিত্র ছিলো। লোকসভা ভোটের গতিপ্রকৃতি মোটামুটি স্পষ্ট হবার পর দিল্লিতে বৈঠকে বসে যায় কংগ্রেসের নেতারা। সেসঙ্গে এনডিএ জোটের ভেতরে-বাইরের বেশ কয়েক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস নেতারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ব্যাপারে ইঙ্গিতও দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

ভারত ব্লকের সরকার গঠনের প্রচেষ্টাকে অস্বীকার না করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাগড়ে। বলেছেন, তেলেগু দেশম পার্টি এবং জনতা দল ইউনাইটেডের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বুধবার জোটের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মল্লিকার্জুন বলেন, এই মুহূর্তে কোন কিছু উড়িয়ে দেয়া যায় না। উল্লেখ এই বর্ষীয়ান নেতা দর কষাকাষিতে ঝানু বলে পরিচিতি আছে।
ইন্ডিয়া ব্লক সরকার গঠনে উদ্যেগ নেবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, আমরা আমাদের জোটের অংশীদারদের সাথে একটি বৈঠক করতে যাচ্ছি। বৈঠকটি বুধবার হতে পারে। এসব প্রশ্ন সেখানে তুলে ধরা হবে এবং অংশীদারদের কাছ থেকে মতামত নেয়া হবে। আমরা আমাদের অংশীদারদের সম্মান করি। তাই তাদের মতামত ছাড়া এই বিষয়ে আমরা সংবাদ মাধ্যমকে কিছু জানাতে চাইছি না।
এদিকে, হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এনডিএ জোটের শরিক অন্ধ্র প্রদেশের তেলেগু দেশম পার্টির প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু এবং বিহারের জনতা দল ইউনাইটেডের প্রধান নীতীশ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাগড়ে। এছাড়া ওডিশার নবীন পাটনায়েকের বিজু জনতা দল-বিজেডি এবং বিহারের লোক জনশক্তি পার্টির (রাম বিলাস) সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর।

বিহারে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ১৫ লোকসভা আসনে এগিয়ে রয়েছে নীতীশের দল। রাজ্যটিতে বিজেপি পাচ্ছে মাত্র ১৩ আসন। একই জোটের দু’দল হিসেবে জেডিইউ বিজেপিকে সমর্থন দিয়ে আসছে। নীতীশের সঙ্গে খাগড়ের যোগাযোগের বিষয়ে তার দল বলছে, তাদের অবস্থান বদলের সম্ভাবনা কম। তবে, বিজেপির এক নেতা নীতীশের সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করতে গেলে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিজেডি নেতা।
উপহাসের জবাব দিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা